নেত্রকোণায় উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে চরম হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। জেলার ছয়টি কলেজ থেকে এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নেত্রকোণা জেলা সদরের নন-এমপিওভুক্ত ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে টানা দুই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন মানবিক বিভাগের এবং একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে চারজনের কেউই পাস করতে পারেননি। এর আগের বছরও এ প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন। ফলে টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে নেত্রকোণা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের শাহ্পুর গ্রামে ‘ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় প্রতিষ্ঠানটির জন্য দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করা হলেও শিক্ষার্থী ভর্তি ও পরীক্ষার ফলাফলে আশানুরূপ অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইকবাল হাসান তপুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি একটি নন-এমপিও কলেজ। এখানে কোনো নিয়মিত শিক্ষক নেই। যখন যাকে প্রয়োজন, ডেকে আনা হয়। তাই নিয়মিত কোনো শিক্ষক নেই।’ ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনাদের কিছু বলতে চাই না। যা বলার শিক্ষা বোর্ডকে বলব।’
শুধু ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজই নয়, জেলার আরও পাঁচটি কলেজের ফলাফলও একই রকম হতাশাজনক। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলা উপজেলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।
জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর গোপালপুর মডেল কলেজ থেকে একজন, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এদিকে, চলতি বছর নেত্রকোণা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৫ হাজার ৮৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।