ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ইউনিয়ন পরিষদের পরিচালন বাজেটের আওতায় ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মেরামতের জন্য মোট ৭০ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা করে। অথচ বরাদ্দের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে হলেও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী
অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর ( পৃতুল ভৌমিক ) এর বক্তব্যে ৭ টির পরিবর্তে উঠে এসেছে মাত্র ৫ টি ইউনিয়নের নাম। বাদ পড়েছে আশুগঞ্জ সদর ও লালপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। বাকি দুটি ইউনিয়নের ২০ লাখ টাকার বরাদ্দের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে কোন স্বীকারোক্তি না থাকায়, দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন? শুধু তাই নয়, স্বীকার করা পাঁচটি ইউনিয়নের মেরামতকাজ ও বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও স্থানীয় জনগণের মধ্যে রয়েছে চরম অসন্তোষ।
প্রাপ্ত সরকারি বরাদ্দের তালিকা অনুযায়ী, আশুগঞ্জ উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন ভিত্তিক বরাদ্দের তালিকা হলো
আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, ১০ লাখ টাকা,
দুর্গাপুর ইউনিয়ন, ১০ লাখ টাকা,
তালশহর পশ্চিম ইউনিয়ন, ১০ লাখ টাকা,
আড়াইসিধা ইউনিয়ন, ১০ লাখ টাকা,
শরীফপুর ইউনিয়ন, ১০ লাখ টাকা,
লালপুর ইউনিয়ন, ১০ লাখ টাকা,
তারুয়া ইউনিয়ন, ১০ লাখ টাকা
৭ টি ইউনিয়নের প্রতিটির জন্য ১০ লাখ টাকা করে সর্বমোট বরাদ্দ ৭০ লাখ টাকা।
কিন্তু এ বরাদ্দের বিষয়ে মুঠোফোনে আশুগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর ( পৃতুল ভৌমিক ) কাছে জানতে চাইলে তিনি ৫ টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মেরামতের কথা স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্যে আশুগঞ্জ সদর ও লালপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের মেরামতের বিষয়টি উঠে আসেনি। অথচ সরকারি তালিকায় এই দুটি ইউনিয়নের জন্যও ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, আশুগঞ্জ সদর ও লালপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বরাদ্দের বিষয়ে প্রকৌশলী বাকী ২ টি ইউনিয়নের বিষয়ে কিছুই বলেননি। এই দুই ইউনিয়নের মেরামতকাজ কি শুরু হয়েছে, নাকি এখনো বাকি? বরাদ্দের অর্থ ছাড় হয়েছে কি -না, অর্থের বর্তমান অবস্থাই বা কী?
অন্যদিকে, প্রকৌশলী ( পৃতুল ভৌমিক) স্বীকার করা ৫ টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের মেরামতকাজ নিয়েও স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। প্রতিটি ভবনের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কতটুকু সংস্কারকাজ হয়েছে, কাজের মান কেমন এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে বরাদ্দের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে হওয়ায় ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের মেরামত কাজের বর্তমান অবস্থা এবং অর্থ ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি উঠেছে। সরকারি বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবে কী পরিমাণ কাজ হয়েছে, কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে, কত টাকা ছাড় হয়েছে এবং কত টাকা ব্যয় হয়েছে, এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি অল্প দিন যোগদান করেছি এ বিষয়ে আমি অবগত নই, আপনার মাধ্যমে অবগত হয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, ৭ টি ইউনিয়নের জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলে প্রকৌশলীর বক্তব্যে ৫ টি ইউনিয়নের হিসাব কেন? আশুগঞ্জ সদর ও লালপুরের ২০ লাখ টাকার বরাদ্দের অবস্থান কোথায়? আবার যে পাঁচটি ইউনিয়নের কথা স্বীকার করা হয়েছে, সেখানেও কাজের মান ও অর্থের ব্যবহার নিয়ে রয়েছে অসন্তোষ।
৭ ইউনিয়নের ৭০ লাখ টাকার সরকারি বরাদ্দ ঘিরে এখন একাধিক প্রশ্ন। আশুগঞ্জ সদর ও লালপুরের ২০ লাখ টাকার হিসাব যেমন পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন, তেমনি বাকি ৫ টি ইউনিয়নের মেরামতকাজ ও অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব প্রশ্নের জবাব এবং প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ( পৃতুল ভৌমিক) এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি ৫ টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মেরামতের কথা স্বীকার করেন। তবে সরকারি বরাদ্দের তালিকায় থাকা আশুগঞ্জ সদর ও লালপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিষয়ে প্রতিবেদকের হাতে তালিকা আশায় পুনরায় একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।