মতিউর ও তার পরিবারের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ আদালতের

Date: 2024-07-05
news-banner

বার্তা বিচিত্রা সর্বশেষ সংবাদ পেতে Google news অনুসরণের জন্য ক্লিক করুন

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):

 

ছাগলকান্ডে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মীর আহম্মেদ সালাম সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ড. মতিউর রহমানের সম্পদ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন জানান, গত ৪ জুন মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে দুদকের একজন উপ-পরিচালককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলের সদস্যরা কাজও শুরু করেছেন। এছাড়া আলোচিত মতিউর রহমানকে গত ২৩ জুন এনবিআর থেকে সরিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আস-সামছ জগলুল হোসেন তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদেশ দেন। এরপর ৩০ জুন এ বিদেশযাত্রা প্রত্যাহার চেয়ে আদালতে আবেদন করেন লায়লা কানিজ। আগামী ২৮ জুলাই এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

 

মতিউরের সম্পতিগুলোর মধ্যে বরিশালে মুলাদী উপজেলায় ১১৪ শতাংশ জমি, লায়লা কাণিজের নরসিংদীর জেলার রায়পুরা উপজেলার মারজাল ইউনিয়নের ৫২২ দশমিক ৫২ শতাংশ জমি ও বসুন্ধরায় ২ হাজার ৪৪৫ স্কায়ার ফিট ফ্ল্যাট, নরসিংদিতে আহম্মেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের ২৭৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ জমি, নরসিংদীতে ফারজানা রহমান ইন্সিতার ১০৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ জমি ও ঢাকার বসুন্ধরায় ৫ কাঠা জমির উপর বহুতল ভবন, ধানমন্ডিতে শাম্মী আখতার শিভলীর একটি ফ্ল্যাট ও বসুন্ধরায় ৫ কাঠা জমি রয়েছে।

 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুদকের উপ-পরিচালক (টিম লিডার) আনোয়ার হোসেন, সহকারী পরিচালক (সদস্য) মাহমুদুল হাসান, ও উপ-সহকারী পরিচালক (সদস্য) সাবিকুন নাহারের সমন্বয়ে ৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান টীম গঠন করা হয়েছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (শুল্ক ও আবগারী) সদস্য মো. মতিউর রহমান দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ হুন্ডি ও আন্ডার ইনভয়েসিং/ওভারইনভয়েসিং এর মাধ্যমে অর্থ পাচার করে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। সাধারন একজন চাকরিজীবী হয়েও এ পর্যন্ত শতকোটি টাকা সাদা করেছেন তিনি।

 

এবার কোরবানির ঈদে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক এ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কিনতে গিয়ে আলোচনার জন্ম দেন মতিউর রহমানের ছেলে ইফাত। তার পরই আলোচনায় আসে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ, আয় ও ব্যয়ের তথ্য। এনিয়ে খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খোদ এনবিআরও তার আয়কর রিটার্নে দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায়।

 

ছাগলকান্ডে আলোচিত ইফাতের কথিত বাবা জাতীয় রাজস্ব রোর্ডের সাবেক সদস্য মো. মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে চারবার অনুসন্ধান করেছে। মূলত মতিউর রহমান কাস্টমস কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুদকসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে তার বিরুদ্ধে তদন্দ করে শাস্তির আওতায় আনতে একাধিক আবেদন জমা পড়ে বলে জানা যায়। 

Leave Your Comments