কুলাউড়ায় প্রয়োজনের তুলনায় বন্যার্তদের জন্য সরকারি বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল, আখই

Date: 2024-07-06
news-banner

বার্তা বিচিত্রা সর্বশেষ সংবাদ পেতে Google news অনুসরণের জন্য ক্লিক করুন



কাওছার আহমদ, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়সভা করেছেন, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বেগম রোকিয়া কল্যাণ ট্রাস্টের প্রধান পরিচালক এম আতিকুর রহমান আখই।

শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় কুলাউড়া পৌরশহরের এক অভিজাত রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় লিখিত বক্তব্যে আতিকুর রহমান আখই বলেন, বন্যার শুরু থেকেই আমি ব্যক্তিগত ও বেগম রোকিয়া কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কুলাউড়ার মানুষের বিভিন্ন সংশয়, সংকট ও দুর্যোগ-দুর্ভোগে সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি কোনো জনপ্রতিনিধি বা নেতা না হয়েও প্রতিদিনই অসহায়-হতদরিদ্র পানিবন্দি মানুষের সাহায্যার্থে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রসহ বন্যাকবলিত এলাকায় ছুটছি।

আখই বলেন, কুলাউড়ার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ আজ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পানিবন্দি। নিজেদের ভিটামাটি ছেড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিজেদের বাড়িতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরের ভেতর পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানিবন্দি এ সমস্ত মানুষের মধ্যে অনেকেই অনাহারে-অর্ধাহারে জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘ ২০ দিন থেকে মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় থাকলেও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত যে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। সরকারি হিসাবমতে, এ পর্যন্ত ১৬ হাজার পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল ও ১১ শতাধিক পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, মাত্র ১০ কেজি চাল দিয়ে কী ৫ থেকে ৭ জনের একটা পরিবার ১৫ থেকে ২০ দিন চলতে পারে?

এবারের মতোন কখনও কুলাউড়ায় এভাবে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা হয়নি উল্লেখ করে আখই আরও বলেন, ২০২২ সাল থেকে সামান্য বৃষ্টি হলে বা পাহাড়ি ঢল নামলেই কুলাউড়াসহ বৃহত্তর  সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। তার কারণ হিসাবে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের হাওরের নির্মিত রাস্তা ও ফেঞ্চুগঞ্জের বাঁধকে দায়ী করা হয়। আবার কেউ কেউ সুরমা, কুশিয়ারা নদীকে খনন না করাকেও দায়ী করেন। কারণ যাইহোক আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই, এ থেকে মুক্তি চাই।

সভায় আখই সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাবনা পেশ করেন। এগুলো হলোঃ-  
১- অবিলম্বে কুলাউড়া উপজেলাকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণা করে সরকারি ত্রাণ তৎপরতা বৃদ্ধি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেক পরিবারকে কমপক্ষে একলক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান।

২- যে সমস্ত ব্যবসায়ী বা খামারি যাদের গরু ছাগল, হাঁস মুরগি ও মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরকে বিনা শর্তে ও বিনা সুদে কমপক্ষে ৫ লক্ষ টাকা করে ঋণ প্রদান। 
৩- জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের একটি সরকারি টিম গঠন করে ২০২২ সাল থেকে কেনো কুলাউড়াসহ বৃহত্তর  সিলেটে বন্যার সৃষ্টি হয় তার কারণ উদঘাটন করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।৪-বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে যে সমস্ত সংগঠন, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কাজ করছেন তাদের মধ্যে একটি সমন্বয় সৃষ্টির প্রস্তাব। 

৫- পানি নামার সাথে সাথেই কুলাউড়া সরকারি হাসপাতালের রাস্তা ও উপজেলা পরিষদের রাস্তা উঁচু করাসহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল রাস্তা জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা। 
৬- দীর্ঘমেয়াদি এই বন্যায় পানিবন্দি মানুষদের সাহায্য সহযোগিতা করার লক্ষ্যে এবং সংকট মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে কুলাউড়ার সকল জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক, মানবিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশাজীবিসহ সকল পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ।

Leave Your Comments