দেওয়ানগঞ্জে ভূমি দস্যুর নজর থেকে বাদ যায়নি মসজিদ ও হাসপাতালের জমিও

Date: 2024-07-09
news-banner

বার্তা বিচিত্রা সর্বশেষ সংবাদ পেতে Google news অনুসরণের জন্য ক্লিক করুন

 

মো. আজাদ হোসেন 
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি 

বাংলাদেশের সিরিয়াল কিলার এরশাদ শিকদারের কথা সবার মনে আছে। সিরিয়ালে হত্যা করা ছিল যার পেশা। তেমনি এক সিরিয়াল মামলা বাজের আতঙ্কে রয়েছে দেওয়ানগঞ্জের ডাংধরা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যে বানোয়াট গায়েবী মামলা করে হয়রানি করাই যার পেশা।

ডাংধরার আতঙ্ক সিরিয়াল মামলাবাজ এডভোকেট কামরুল ইসলাম মনি একজন ভূমিদস্যু।

তথ্য সুত্রে জানা যায় কামরুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে কাউনিয়ারচর কেন্দ্রীয় মসজিদের রেকর্ডকৃত কারখানা মৌজাস্থ খ-,৬০৬,দ-৩০৭৩ এর ১১ শতাংশ ও ডাংধরা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ শতাংশ জমি নুরুজ্জামান গং দের কে সাথে নিয়ে অবৈধ ভাবে দখল করার চেষ্টা করছে কামরুল।শুধু তাই নয় নুরুজ্জামান গং দের বাদী করে আদালতে মামলা করান কামরুল হাসান। এ মামলায় কাউকে কোনো নোটিশ না দিয়ে একতরফা রায় করায়। এ রায়ের জবাব দিতে মসজিদ কমিটি ইতোমধ্যেই আপিল করেছেন। স্থানীয় তথ্য সুত্রে জানা যায় বাদীর সাথে কামরুল হাসান চুক্তি করে ১১ শতাংশ জমির মধ্যে সমান ভাগ নেবো।

 স্থানীয়রা আরও বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামে বিবাদীরা ১৯৮৪ সালে দলিল দিয়েছে। দলিল নাম্বার হলো ২৯২২ এই দলিল দিয়ে নামজারি করেছ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কামরুল হাসান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের পূর্ব পার্শ্বের সীমানায় দুটি ঘর নির্মাণ করে রেখেছে। এই ঘরের  জায়গা টিকিয়ে রাখতে এ মামলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের দাগ উল্লেখ করে। এই রায়ের উপর ভিত্তিকরে কামরুল হাসান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ শতাংশ জমি নাম জারী করার জন্য ডাংধরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যায়। নায়েব সোলায়মান কাগজ দেখে ব'লে, নাম জারী করা অসম্ভব। কারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামে নাম জারীকৃত।

কুখ্যাত ভূমিদস্যু কামরুল ইসলাম  শুধু ভূমি দস্যুই নয়। সিরিয়াল মামলা বাজ হিসেবে ও বেশ আতংক ছড়িয়েছেন ডাংধরায়। ডাংধরা বিন্দুচরের স্থায়ী বাসিন্দা মিজানুর রহমান সহ বেশকিছু  পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা, বানোয়াট, গায়েবী,মামলা দায়ের করেন কামরুল ইসলাম । 

কামরুল ইসলামের রাজনৈতিক বিষয়ে তথ্য
অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে অনেক কাহিনী।জানা যায় কুখ্যাত ভূমিদস্যু কামরুল ডাংধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সাধারণ সম্পাদক হয়েই নানা অন্যায় অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। কামরুলের অন্যায় অনিয়মের সহযোগী হিসেবে জামালপুর সদরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে ফল বিক্রেতা সোহাগ মন্ডল ওরফে সোহাগ মিয়া ২-৩ বছর আগে ডাংধরা কামরুলের হাত ধরে বিন্দুর চর আসে।

 বিন্দূর চরে এসেই মদ, জুয়া, ও নারী কেলেঙ্কারীর সাথে জরিয়ে পরে। 
সোহাগ মন্ডলকে নিয়ে এসে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের এক লক্ষ টাকার কাবিটা প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে কাজ না করেই সব টাকা হাতিয়ে নেয়। 

গতবছর সানান্দবারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে এক অভিযানে
কামরুল হাসান মনির বাগান বাড়ি থেকে জুয়া খেলা অবস্থায়  কদম তলার সবুর সহ সোহাগ মন্ডলকে গ্রেফতার করে। এসময় আরো দুজন পালিয়ে যায়। 

কামরুল ইসলাম মনি ও সোহাগ মন্ডল সম্পর্কে 
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং জমির কাগজ পত্র  অনুসন্ধান প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। হাজির হবো আগামী পর্বে। অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

Leave Your Comments