সংবাদ প্রকাশের জেরে সংবাদ কর্মীকে মোল্লা শাওনকে ফিল্মি স্টাইলে কুপিয়ে জখম

Date: 2024-07-10
news-banner

বার্তা বিচিত্রা সর্বশেষ সংবাদ পেতে Google news অনুসরণের জন্য ক্লিক করুন



খান আরিফ:

সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক তারুণ্যের বার্তার ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি মোল্লা শাওনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। 

চলতি মাসের ৮ তারিখে রোজ সোমবার দুপুর আনুমানিক একটার দিকে সংবাদ কর্মী মোল্লা শাওন বরিশালের সাইবার ট্রাইবুনাল আদালতে একটি মামলার হাজিরা শেষে ঝালকাঠি যাওয়ার পথে তিনটি হোন্ডায় মোট ৯ জন সন্ত্রাসী হেলমেট পরিহিত অবস্থায় তার সামনে এবং পিছনে গতিরোধ করার চেষ্টা করলে সংবাদকর্মী মোল্লা শাওন বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানের সংযোগ সড়কে হঠাৎ করে ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ বরিশাল ডিসির বাসার সামনে অবস্থান করেন মোল্লা শাওন। প্রায় ৩০ মিনিট পর আশেপাশে ভালোভাবে দেখে তিনি পুনরায় রওনা করেন ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে। বরিশাল এবং ঝালকাঠির সংযোগ সেতু কালিজিরা ব্রীজের ঢাল পার হয়ে মোল্লা শাওন তার বাইকে যখন এগোচ্ছিলেন ঠিক তখনই তিনটি হোন্ডা তাকে সামনে পিছে  ঘিরে ফেলে। 

ঘটনাটি যেকোনো ফিল্ম স্টাইল কেউ হার মানাবে।  মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় মোল্লা শাওনের বাম হাতে বগি দাও দিয়ে কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। এতে করে শাওনের কব্জির অর্ধেক কেটে যায়। তবুও দমে যাননি শাওন, জীবন রক্ষার প্রাণপণ তাগিদে তিনি ডান হাতে  মোটরবাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ঘটনার দিন বৃষ্টি থাকার কারণে রাস্তা প্রায় ফাঁকাই ছিল। এই সুযোগটি গ্রহণ করে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা বোগি দাও দিয়ে শাওনের মাথায় কোপ দিলে মাথায় থাকা হেলমেট 2খণ্ড হয়ে রাস্তার দুই দিকে চলে যায়। শাওনের মোটরসাইকেলের ডান দিকে থাকা আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা সন্ত্রাসীরা জি আই পাইপ দিয়ে শাওনের ডান হাতে প্রচন্ড জোরে আঘাত করলে হাতের একটি হাড় ভেঙে যায়। ওই ভাঙ্গা হাত নিয়েই শাওন মোটর বাইকে এর এক্সিলেটর চেপে জীবন বাঁচানোর তাগিদে ছুটেই চলছিলেন।

 এমত অবস্থায় সন্ত্রাসীরা শাওনের দুই পাশ ঘিরে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে অঙ্গে এলোপাথাড়ি  কোপাতে শুরু করে।  শাওনের মোটরবাইক যখন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার রায়পুরা কাচারী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় আসে তখনই শাওনের শরীর আস্তে আস্তে নিথর হয়ে আসে।  জ্ঞান হারিয়ে মটরবাইক থেকে পড়ে যান শাওন। শাওনের পড়ে যাওয়া দেখে মোটর বাইক ঘুরিয়ে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। 

স্থানীয় জনতা শাওনকে একটি অটোতে তুলে নিয়ে যায় ঝালকাঠি থানায়।  থানার অফিসার ইনচার্জ তার সঙ্গীও ফোর্স নিয়ে শাওনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় ঝালকাঠি হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝালকাঠি থানা এবং নলছিটি থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পুলিশি ভ্যানে করে শাওনকে নিয়ে আসা হয় বরিশাল শেরই বাংলা  মেডিকেল হাসপাতালে।  

বর্তমানে শাওন এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। শাওনের শরীরে প্রায় ১৭ টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। রয়েছে অসংখ্য জিয়াই পাইপ দ্বারা আঘাতের চিহ্ন। শাওনের বাম হাতের কবজির প্রায় অর্ধেকটা কেটে গেছে এবং কয়েকটি রক্তনালী কাটা পড়ে গেছে। ওই দিনের নৃশংস ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শাওন অশ্রুসিক্ত নয়নে কাপা স্বরে তার সহকর্মীদের কাছে লেখনীর মাধ্যমে দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার বিনীত অনুরোধ জানান। 

শাওন বলেন,  আসিফ শিকদার মানিক, আবু আক্তার, শাহীন, শোভন, বাবু হাওলাদার, নাঈম তালুকদার সহ আরো প্রায় ছয়-সাত জন তাকে জীবনের তরে শেষ করে দেয়ার জন্য এই হামলায় অংশ নেয়। আক্রমণকারীদের পেছনেই অন্যান্য আসামিরা কয়েকটি বাইক নিয়ে শাওনকে তারা করছিল বলে জানান শাওন। 

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি আমতলার বাসিন্দা চিহ্নিত মাদক  ব্যবসায়ী আসিফ সিকদার মানিক কিছুদিন আগে ঝালকাঠি থানা পুলিশের কাছে ইয়াবাসহ ধরা পড়ে।  মানিকের এই ধরা পড়ার ছবি সহ সংবাদকর্মী শাওন নিউজ প্রকাশ করলে ইয়াবা ব্যবসায়ী আসিফ সাইবার ট্রাইবুনাল আদালতে শাওনের নামে মিথ্যে মামলা দায়ের করে। এই মামলার হাজিরা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই শাওন বরিশাল সাইবার ট্রাইবুনাল আদালতে এসেছিলেন। 

অপরদিকে ঝালকাঠি জেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আবু আক্তার তার ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেয়ার নাম করে প্রায় ১২ জনের কাছ থেকে ঘুষ  গ্রহণ করেন। সাংবাদিক মোল্লা শাওন সাবেক এই মেম্বারের ঘুষের টাকা গ্রহণ এবং স্থানীয় ঐ ইয়াবা ব্যবসায়ী আসিফ শিকদার মানিকের ইয়াবা ব্যবসার সংবাদ প্রকাশ করলে উল্লেখিত দুইজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংবাদকর্মী শাওন মোল্লাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  তারই অংশ হিসেবে শাওন এর উপর এহেন নৃশংস হামলা বলে জানা যায়। 

এ প্রসঙ্গে জানতে ঝালকাঠি জেলার নলসিটি থানার অফিসার ইনচার্জ এর সরকারি  মোবাইল নাম্বারে ফোন করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।  তবে ভুক্তভোগী মোল্লা শাওনের পারিবারিকভাবে জানা গেছে তারা এখনো মামলা দায়ের করতে পারেননি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান। 

এ বিষয়ে জানতে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার এর মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।।

Leave Your Comments