কালিগঞ্জ গান্ধুলিয়া মাদ্রাসায় নির্বাচনে প্রার্থী হতে সন্তানকে ভুয়া ভর্তির অভিযোগ

Date: 2024-07-10
news-banner

বার্তা বিচিত্রা সর্বশেষ সংবাদ পেতে Google news অনুসরণের জন্য ক্লিক করুন



সাইফুল আজম খান : সাতক্ষীরা। 

২০২৪ সালে সাতক্ষীরা কালীগঞ্জ উপজেলার মুড়াগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পাস করেন আবু রায়হান। ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ডি,আর,এম আইডিয়াল কলেজে এইচএসসি ভর্তি হন। এখন পড়ছেন প্রথম বর্ষে। অথচ চলতি বছরের শুরুতে আবু রায়হান গান্ধুলিয়া  দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় মানবিক শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন। এলাকাবাসী জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচনের জন্য আবু রায়হান কে নতুন করে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছেন তাঁর মা রেহেনা বেগম। এই অবৈধ পন্থায় ভর্তির জন্য সহযোগিতা করেন অত্র মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নওশের আলী ও অফিস সহকারি আবু সালেহ মোহাম্মদ মুসা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় আলোড়ন তৈরি হয়।
জানা গেছে, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচন আগত। মাদ্রাসায় মোট বৈধ ভোটার (খসড়া অনুযায়ী) ২৫৬ জন। এতে অংশ নিবেন মোট ৯ টি পদে।

গত সোমবার মাদ্রাসার ভর্তি রেজিস্টার খাতায় দেখা গেছে, আবু রায়হানের নাম ভর্তি খাতায় অন্তর্ভুক্ত করা নাই। কোন ক্লাসে অংশ নেননি। অথচ মাদ্রাসায় হাজিরা খাতায় অন্য শিক্ষার্থীর নাম ফ্লুইড দিয়ে মুছে আবু রায়হানের নাম বসানো হয়েছে। নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হয়েছে। শিক্ষক নওশের আলী তার নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে দাবি করেন। 

এ অভিভাবকের সদস্য পদে নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্থানীয়রা নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করবেন বলে জানান। এবিষয়ে আবু রায়হানের অভিভাবক মা রেহেনা বেগম বক্তব্য দিতে রাজি হননি। 

মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নওশের আলীর দাবি, শিক্ষার্থীর ভর্তিতে অনিয়মের বিষয়ে কিছুই জানেন না। মাদ্রাসা সুপার রুহুল আমীন এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। আবার অনেকেই বলেন ভর্তিতেই নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে বলে জানান। 

আবু সালেহ মোহাম্মদ মুসা মোবাইল ফোনে দাবি করেন, ‘তাদের ভর্তির বিষয়ে আমি জানি না। ভর্তির বিষয়টা অন্য শিক্ষক দেখভাল করেন।’ তিনি পরে ফোনে কথা বলবেন জানিয়ে সংযোগ কেটে দেন।

 কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাকি বিল্লাহর চোখে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের এমন কাণ্ড ন্যক্কারজনক। তিনি সদস্য নির্বাচিত হতে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করায় তাদের মনোনয়ন বাতিলের আশ্বাস দেন। এমনকি এতে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ মিললে মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। 

ইউএনও দিপংকর দাশ বলেন, এইচএসসির ছাত্র নবম শ্রেণিতে ভর্তির বিষয়টি কৌতূহলোদ্দীপক। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই প্রার্থীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হবে।

Leave Your Comments