বরগুনা জেলার আমতলী পৌরসভার পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় খাদ্যগুদামের সামনে সরকারি জমিতে রোপণ করা শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ জোরপূর্বক কর্তনের অভিযোগ উঠেছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী পৌর শাখার সভাপতি ও আসন্ন পৌর নির্বাচনে আমতলীর মেয়র প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমতলী (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুর রশিদ খান।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকার খাদ্যগুদামের সামনে সরকারি জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ কাটা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬-৭ জন ব্যক্তি কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো কর্তন করেন।
অভিযোগকারী আব্দুর রশিদ খান বলেন, "আমিসহ আরও ৬/৭ টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে থাকা গাছগুলো নিজ উদ্যোগে লাগানো, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করে আসছি। কিন্তু আমাদের অনুমতি ছাড়াই ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী কামরুজ্জামান তার লোকজন নিয়ে শতাধিক ফলের গাছ কেটে ফেলেছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি আমাকে হুমকি দেন। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসলামি আন্দোলনের আমতলী শাখার মেয়র প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, "উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক হাসান মো. হাফিজুর রহমানের মৌখিক নির্দেশেই গাছগুলো কর্তন করা হয়েছে। তবে আমার নেতৃত্বে হয়নি, পৌরসভার লোকজন এসে কেটেছে।" তিনি আরও বলেন, "গুদাম ঘরের মসজিদের আয়ের জন্য সেখানে স্টল নির্মাণ করা হবে, এ বিষয়ে এমপি মহোদয়ের কাছে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে, তিনি দুই লাখ টাকা সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।"
গুদাম ঘর মসজিদের সভাপতি ও উপজেলা খাদ্য গুদামের পরিদর্শক মো. তাইফুর রহমান তপন বলেন, "এ বিষয়ে মসজিদে কোনো আলোচনা হয়নি, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। সরকারি জায়গার গাছ যারা কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।"
উক্ত অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, "অভিযোগ পত্র পেয়েছি। সরকারি জায়গার গাছ কাটা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।"
সরকারি জমিতে রোপণ করা শতাধিক ফলের গাছ কর্তনের ক্ষেত্রে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।