পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP31)-এ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন তরুণ সংগঠক ও পরিবেশবাদী মোঃ তাওহীদুল ইসলাম। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশগত বাস্তবতা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা বিশ্বনেতা ও নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরবেন।
মোঃ তাওহীদুল ইসলাম ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল বাংলাদেশ (YDSB)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি। ২০১৮ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ, নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা, যুব নেতৃত্ব বিকাশ এবং টেকসই উন্নয়নে কাজ করে আসছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত তাওহীদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকার পানি সংকট, ঝিরি-ঝরনার প্রবাহ কমে যাওয়া, বন উজাড়, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন। এসব সংকট স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর নেতৃত্বে YDSB পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নারী ও যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশ, গবেষণা, সচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ উদ্যোক্তা তৈরিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
COP31-এ গুরুত্ব পাবে CHT Climate Declaration 2026
COP31-এ তাওহীদুল ইসলামের অংশগ্রহণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো YDSB-এর উদ্যোগে পরিচালিত ‘CHT Climate Declaration 2026’-এর গবেষণালব্ধ ফলাফল ও সুপারিশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা।
এ উদ্যোগের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির ২৬টি উপজেলায় স্থানীয় জলবায়ু সংকট, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ ও সংলাপ পরিচালনা করা হয়েছে।
বিশেষ করে পানির সংকট, জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়গুলো এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
এসব গবেষণা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামতের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত জলবায়ু ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা ও জনগণের সুপারিশ বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা, ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান (NAP), ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনস (NDC) এবং অন্যান্য নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলে ধরা হবে।
যুব নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব
তাওহীদুল ইসলামের কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। এ লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার তরুণদের নিয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে YDSB।
তাওহীদুল ইসলাম মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও স্থানীয় উন্নয়নে তরুণদের কেবল অংশগ্রহণকারী হিসেবে নয়, বরং পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নেতৃত্বেও থাকতে হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে স্থানীয় সম্পদের টেকসই ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, সবুজ উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করছে সংগঠনটি।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা
তুরস্কের আনতালিয়ায় COP31 সম্মেলনে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আন্দোলনের বিভিন্ন সংগঠন, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছেন তাওহীদুল ইসলাম।
সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পানি ও পরিবেশ সংকট, স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়ন, নারী ও যুব নেতৃত্ব এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষভাবে তুলে ধরতে চান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, COP31-এ তাঁর এই অংশগ্রহণ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবেশ ও জলবায়ু সংকটকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নে নতুন সহযোগিতা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।