নেত্রকোণার কলমাকান্দা নাজিরপুরে প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নাজিরপুর পল্লী জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাজিরপুরসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ আরও সুগম হতে পারে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলনের কাছে বিদ্যালয়টিকে কলেজে উন্নীত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে একটি ডিও লেটার প্রদান করেন ডেপুটি স্পিকার।
উচ্চশিক্ষার পথে প্রধান বাধা দূর করার প্রত্যাশা
গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত কলমাকান্দার নাজিরপুর ও পার্শ্ববর্তী সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক শিক্ষার্থীর জন্য মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কাছাকাছি মানসম্মত কলেজের অভাব, দূরবর্তী স্থানে যাতায়াত এবং পারিবারিক আর্থিক সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
ডেপুটি স্পিকারের দেওয়া ডিও লেটারে এসব সমস্যার কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাড়তি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
ছয় দশকের ঐতিহ্য, নতুন সম্ভাবনার হাতছানি
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নাজিরপুর পল্লী জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর ধরে এলাকার শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা রেখে আসছে। ডিও লেটারে বিদ্যালয়টির অবকাঠামো, সুবিশাল ক্যাম্পাস এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উপযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মানবিক ও বিজ্ঞান শাখার সমন্বয়ে বিদ্যালয়টিকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নাজিরপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারে।
আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ গড়তেও উদ্যোগ
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনিসুল ইসলাম এ উদ্যোগকে এলাকার জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বিদ্যালয়ে আইসিটি ল্যাব, ডিজিটাল ক্লাসরুম ও ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতিতে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
নারীশিক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাবের আশা
শিক্ষাবিদদের সাধারণ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ বাড়লে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের চাপ কমানো এবং পড়াশোনা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে। নাজিরপুর পল্লী জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করার উদ্যোগও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী এবং দূরবর্তী কলেজে যাতায়াতে সমস্যায় পড়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা চালুর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এলাকার মানবসম্পদ উন্নয়নেও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় স্থানীয়রা ,বিদ্যালয়টিকে কলেজে উন্নীত করার উদ্যোগের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে এখনো বিদ্যালয়টিকে কলেজে উন্নীত করার চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এ উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি স্পষ্ট হবে।