জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২-এর বাছাইপর্ব ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করে জাতীয় পর্যায়ে খেলার স্বপ্ন দেখছে শিক্ষার্থীরা।
৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বড়তারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ইউনিয়নের ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়ে নিজেদের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে তারা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও ভালো পারফরম্যান্স করা খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম, বড়তারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের ও কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরমান আলী খানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যয়ভার বহন করেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইউনিয়নের ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের হাতে একটি করে ট্রফি ও খেলার বল তুলে দেওয়া। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ভালো ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে, তাদেরও পুরস্কৃত করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা জানিয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। তাদের এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে রাখতে তাদের নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধুলা শুধু শরীর সুস্থ রাখে না, বরং শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যবোধ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি সাংবাদিকদের জানান, খেলাধুলার মাধ্যমে বাছাই করা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব খেলোয়াড়ের মধ্যে বিশেষ প্রতিভা রয়েছে, তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন,যুব ও ক্রিয়া মন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এ আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বড়তারা ইউনিয়নের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকশিত হবে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে এবং গড়ে উঠবে মাদকমুক্ত সমাজ।