ঝালকাঠির বিনয়কাঠি এলাকায় মো. কামাল মাঝি নামে এক কৃষককে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে হাত-পা ও কোমরে রশি বেঁধে মারধর এবং টেনেহিঁচড়ে গ্রাম ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর স্ত্রী-সন্তানের সামনেই তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারীর দাবি, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সরদার এনামুল হক এলিন তাঁর দলীয় বাহিনী নিয়ে এ ধরনের ‘মব’ সৃষ্টি করে কামাল মাঝিকে নির্যাতন ও প্রকাশ্যে অপদস্থ করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এলিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সোনিয়া আক্তার। অভিযোগের অনুলিপি পুলিশ সুপার ও ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে একটি ঘটনার সূত্র ধরে কামাল মাঝিকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে আটক করা হয়। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে জিআই পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও ফোলা দেখা দেয়। একপর্যায়ে কোমরে রশি বেঁধে টেনেহিঁচড়ে গ্রাম ঘোরানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য না হয়েও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনাটি সত্য হলে তা ব্যক্তির মর্যাদা, শারীরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল। অভিযোগকারী ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন।
‘অপরাধী হলে আইন বিচার করবে’
কামাল মাঝির স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, “আমার স্বামী পাঁচ বছর আগে মাদক ব্যবসা করতেন, কিন্তু এখন আর সেই ব্যবসা করেন না। তিনি যদি অপরাধী হন, তাহলে আইন তাঁর বিচার করবে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে কেন মারধর করা হলো? আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে গাঁজাসহ কামাল মাঝি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন এবং এ-সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই মামলার বর্তমান অবস্থা ও অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতা সরদার এনামুল হক এলিন ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও তাঁকে আটক করে মারধর কিংবা প্রকাশ্যে অপদস্থ করার অধিকার কি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রয়েছে? অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
ভুক্তভোগীর পরিবার এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ বিচারের দাবি জানিয়েছে।