ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা পত্রিকার সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান, পত্রিকার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন পত্রিকাটির সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান। আদালতে দাখিল করা অভিযোগে পত্রিকার সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগের বর্ণনা অনুযায়ী, বাদী শফিকুল ইসলাম খান দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থেকে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসব ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে বাদীপক্ষের দাবি।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, বার্তা বিচিত্রায় ঢাকা ওয়াসা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযুক্তদের একজন পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। এ সময় প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর দাবি, তাঁকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে যাত্রাবাড়ী ওয়াসা জোন অফিসের গেটে বার্তা বিচিত্রা পত্রিকার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সংবলিত পোস্টার লাগানো হয়। অভিযোগে নাহিদ নামের একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে পোস্টার তৈরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ১০টি রাজস্ব জোনে একই ধরনের পোস্টার লাগিয়ে পত্রিকাটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও বাদী দাবি করেছেন।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, পোস্টার লাগানো ও অন্যান্য কথিত কর্মকাণ্ডের কারণে পত্রিকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে বাদী ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
বাদীপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলায় ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক ফজলুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর মাহাদী জামান, বিলিং সহকারী কামরুল হাসান এবং মোঃ সবুজের নাম উল্লেখ রয়েছে।
সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই এবং জনগণের সামনে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, প্রমাণের যথার্থতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া বা সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় বাদীপক্ষের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো অভিযুক্তকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না। মামলার বর্তমান অবস্থা, আদালতের সর্বশেষ আদেশ এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী তথ্য প্রকাশ করা হবে।