চট্টগ্রামের বন্দর ও পতেঙ্গা থানা এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগে বহুল আলোচিত মালা বেগম ওরফে মালা ভাবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ সাত মাস ধরে পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। সোমবার ২৬ অক্টোবর রাতে বন্দর থানা পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানকারী দল নগরীর কাঠগড় কালী মন্দিরের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের নির্দেশনায় এসআই ফরিদ আহমেদ, এএসআই জসিম উদ্দিন ও নারী কনস্টেবল ঝুমা আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কাঠগড় কালী মন্দিরের সামনে থেকে মালা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের নথি ও সংশ্লিষ্ট মামলার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মালা বেগমের বয়স ৩৬ বছর। তার স্বামীর নাম মালেক। তার স্থায়ী ঠিকানা পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার খাঁনাবাড়ী গ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দর থানার কলসীদিঘীর পাড়ের হাজী বিল্ডিং এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মালা বেগমের বিরুদ্ধে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখা ও এ কাজে সহায়তার অভিযোগে নিয়মিত মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার হেফাজত থেকে ১১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ১০ দশমিক ১৬ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৪ হাজার ৮০০ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফিরোজ শাহ বা ফুড ইপিজেড গেট এলাকা থেকে কলসীদিঘীর পাড় ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে মালা বেগমের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সরকারি জায়গা দখল, ফুটপাত ও সড়কের পাশে অবৈধ দোকান বসানো এবং এসব দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে অসামাজিক কার্যকলাপ ও দেহ ব্যবসার একটি চক্র পরিচালনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগের সত্যতা আইনগতভাবে যাচাইয়ের বিষয় রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মালা বেগমের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলা ও পরোয়ানার বিষয়ও যাচাই করা হচ্ছে।

মালা বেগমের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হলে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।