মানিকগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি-মাদক নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে তদারকির বড় দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাহাদ গাজী (ইকবাল), নরসিংদী:


দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক সরকারি কার্যক্রম তদারকির জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেটের তালিকায় সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার তালিকায় মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ উল্লেখ করা হয়েছে।


সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রী। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নরসিংদী-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। এরপর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।


এবার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের মাঠ প্রশাসনের সরকারি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর দায়িত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।


গেজেট অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সংশ্লিষ্ট জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


মানিকগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পাওয়া বকুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জনসেবা এবং সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবেন।


এ ছাড়া সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণের সুযোগও তাঁর দায়িত্বের আওতায় থাকবে।

পদ্মা সেতু ও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং শিল্প-বাণিজ্যিক গুরুত্বের কারণে মুন্সিগঞ্জও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। এই জেলার দায়িত্বও বকুলের ওপর দেওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প, আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নে তাঁর তদারকি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


বিশেষ করে জেলার উন্নয়ন বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয় এবং জনগণের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ইতোমধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, জনবল সংকট দূর করা এবং স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটমুক্ত করার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি পূরণের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন। ফলে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল ও চিকিৎসা অবকাঠামোর বিষয়গুলোও তাঁর নজরে আসতে পারে।


গেজেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


এ কারণে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সরকারি সেবা জনগণের কাছে কতটা পৌঁছাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কী অবস্থায় রয়েছে—এসব বিষয়ে বকুলের তদারকি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


সরকারের নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনের ফলে এখন মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মাঠপর্যায়ে কতটা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবায় তাঁর তদারকি কতটা কার্যকর হয়।