১৮০ দিনে মন্ত্রিসভার আয়না: ব্যর্থতার দায় কি শুধু মন্ত্রীদের?

এস আই খান: 

সরকারের বয়স ছয় মাস। সময়ের বিচারে এটি খুব দীর্ঘ নয়; কিন্তু রাজনৈতিক বিচারে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্ষমতায় আসার আগে যে সরকার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয়, ক্ষমতায় যাওয়ার পর জনগণ তার কাছে প্রথমেই জানতে চায়—কাজ কোথায়? প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব কতটুকু? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া কোথায়?
বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের দিকে তাকালে একদিকে কিছু ইতিবাচক অর্থনৈতিক সূচক দেখা যায়, অন্যদিকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, কৃষি, দ্রব্যমূল্য ও জনসেবার নানা ক্ষেত্রে অসন্তোষও স্পষ্ট। ফলে আজকের প্রশ্নটি কোনো একক মন্ত্রীকে ‘ব্যর্থ’ ঘোষণা করা নয়; বরং প্রশ্ন হলো—কোন কোন মন্ত্রণালয় জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না এবং কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই মনে রাখতে হবে, সব সমস্যার দায় বর্তমান সরকারের নয়। বহু সংকট আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে এসেছে। কিন্তু ভোট ও ক্ষমতার সঙ্গে দায়ও বদলায়। জনগণ অতীতের হিসাব জানলেও বর্তমানের সমাধান চায় বর্তমান সরকারের কাছ থেকেই। তাই ‘সমস্যা আগের’—এই যুক্তি অনন্তকাল চলতে পারে না।
সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি। শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, লোডশেডিং এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অর্থনীতির চাকা স্বাভাবিক রাখা কঠিন। বিনিয়োগকারীর আস্থা, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান—সবকিছুর সঙ্গে এই খাতের সরাসরি সম্পর্ক।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সামনে তাই শুধু আজকের সংকট সামলানোর দায়িত্ব নয়; রয়েছে একটি অকার্যকর ও ব্যয়বহুল ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে সংস্কারের প্রশ্ন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট পুরোপুরি ঠিক করতে সময় লাগবে। কিন্তু জনগণের প্রশ্ন স্বাভাবিক—সময় লাগবে, তা ঠিক; তবে রোডম্যাপ কোথায়?
একটি সরকার যদি শুধু বলে ‘সমস্যা পুরোনো’, তাহলে রাজনৈতিক দায় কমে না। বরং জনগণ জানতে চায়, নতুন সরকার পুরোনো সমস্যার সমাধানে নতুন কী করছে। বিদ্যুৎ খাতে তাই ব্যর্থতার প্রশ্নটি শুধু লোডশেডিংয়ের নয়; এটি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহির প্রশ্ন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে দৃশ্যমান রাজনৈতিক অস্বস্তির উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিকূল আবহাওয়া, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। ঢাকাসহ একাধিক জেলায় তারা শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করে। পরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে ছয় দফা দাবি তোলে।
এ ঘটনা সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক শিক্ষা। কারণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত সরাসরি তরুণ প্রজন্মের জীবনে প্রভাব ফেলে। পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্তের সামান্য ভুলও বড় আস্থার সংকটে পরিণত হতে পারে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, ক্ষমতাসীন দলের অন্তত ১৪ জন সংসদ সদস্য এবং বিএনপির পাঁচজন স্থায়ী কমিটির সদস্য শিক্ষামন্ত্রীর সংকট ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এখানে শিক্ষামন্ত্রীর আত্মপক্ষসমর্থনের জায়গাও আছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল—এমন বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। ভুলের জন্য সংশোধনমূলক ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু রাজনীতিতে শুধু সিদ্ধান্তের যুক্তি যথেষ্ট নয়; মানুষের কাছে সিদ্ধান্তটি কতটা মানবিক ও সংবেদনশীল ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনায় সরকারের জন্য শিক্ষা একটাই—জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে সঠিক সিদ্ধান্তও ভুল হিসেবে প্রতিভাত হতে পারে, আর ভুল সিদ্ধান্ত দ্রুত আস্থা সংকটে রূপ নেয়।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে দাবি করেছেন এবং কৃষিকে আমদানি নির্ভরতা থেকে বের করে আনার লক্ষ্যের কথা বলেছেন।
লক্ষ্যটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাফল্য প্রেস ব্রিফিংয়ে নয়, মাঠে মাপা হবে। কৃষক সময়মতো সার পাচ্ছেন কি না, বীজ ও সেচের খরচ কত, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য মিলছে কি না—এসবই আসল সূচক।
সরকারি গুদামে সার থাকলেও যদি স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট বা মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য থাকে, তাহলে প্রশাসনিক সাফল্যের দাবি কৃষকের কাছে অর্থহীন। কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়লে এবং ন্যায্যমূল্য না মিললে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজারের ওপর পড়ে। তাই কৃষি মন্ত্রণালয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—পরিসংখ্যানের সাফল্যকে কৃষকের জীবনের সাফল্যে রূপান্তর করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সামনে সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা। সরকার দাবি করতে পারে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং পুলিশ সক্রিয়। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিকের কাছে প্রশ্নটি আরও সরল—তিনি রাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন কি না, তার সম্পদ নিরাপদ কি না, থানায় গিয়ে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সাফল্য শুধু মামলা, গ্রেপ্তার বা অভিযান দিয়ে মাপা যায় না। অপরাধ প্রতিরোধ, পুলিশের পেশাদারিত্ব, তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগ—এসবই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ।
এখানে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ। জনগণ যদি মনে করে আইন সবার জন্য সমান নয়, তাহলে সরকারের অন্য সব অর্জনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাই শুধু অপরাধী ধরার নয়; রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনারও।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সরাসরি ব্যর্থ বলা সহজ, কিন্তু ন্যায্য নয়। কারণ অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক সূচক দেখা যাচ্ছে। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক ভালো হলেই মানুষের জীবন ভালো হয়ে যায় না।
মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও বাজারে উচ্চ দাম, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ, ব্যাংকিং খাতের সংকট এবং রাজস্ব আদায়ের সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। ফলে অর্থমন্ত্রীর আসল পরীক্ষা হলো—অর্থনীতির কাগুজে স্থিতিশীলতা কীভাবে সাধারণ মানুষের আয়, কর্মসংস্থান ও ক্রয়ক্ষমতায় প্রতিফলিত হয়।
একজন দিনমজুর, একজন নিম্নবিত্ত চাকরিজীবী কিংবা একজন ছোট ব্যবসায়ী যদি বাজারে স্বস্তি না পান, তাহলে রিজার্ভ বাড়ার খবর তাদের কাছে খুব বেশি অর্থবহ হয় না। তাই অর্থনৈতিক সাফল্যের নতুন সংজ্ঞা প্রয়োজন—মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা স্বস্তি এসেছে, সেটিই হোক প্রধান সূচক।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কোনো এক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। অর্থ, বাণিজ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, পরিবহন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ফলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে একজন মন্ত্রীকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান হবে না।
সরকারের দায়িত্ব হলো সরবরাহ চেইন পর্যবেক্ষণ, মজুতদারি ও কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আমদানি-রপ্তানি নীতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজন হলে সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো। জনগণ প্রতিদিন বাজারে যে বাস্তবতা দেখছে, সেটিই সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সবচেয়ে কঠিন রিপোর্ট কার্ড।
স্বাস্থ্য খাতেও একই কথা প্রযোজ্য। হাসপাতাল পরিদর্শন, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান কিংবা সংস্কারের ঘোষণা অবশ্যই প্রয়োজনীয়; কিন্তু রোগীর বিছানা, ওষুধ, চিকিৎসক, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত না হলে ঘোষণার মূল্য সীমিত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সামনে তাই দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চাপ রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বহু সমস্যা দীর্ঘদিনের। কিন্তু নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি হলো পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের প্রথম প্রমাণ জনগণকে হাসপাতালের দরজায় পেতে হবে।
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কোনো মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হলে শুধু মন্ত্রীকে দায়ী করা কি যথেষ্ট? উত্তর—না। মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীনস্থ দপ্তর, মাঠ প্রশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সবাই মিলে একটি সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে।
এই বাস্তবতা বিশেষভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সংকটে দেখা গেছে। পরীক্ষা আয়োজনের সঙ্গে বোর্ড, প্রশাসন ও অন্যান্য সংস্থাও যুক্ত। ফলে ভুল সিদ্ধান্ত হলে দায়ও সমন্বিত। কিন্তু রাজনৈতিক দায় থেকে মন্ত্রী পুরোপুরি মুক্ত নন। কারণ মন্ত্রীই জনগণের সামনে সেই নীতির রাজনৈতিক মুখ।
একইভাবে বিদ্যুৎ সংকট শুধু বিদ্যুৎমন্ত্রীর সমস্যা নয়; অর্থায়ন, গ্যাস সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ—সব ক্ষেত্রেই একাধিক সংস্থা জড়িত। কৃষিতে সার আমদানি থেকে ডিলার পর্যন্ত দীর্ঘ শৃঙ্খল রয়েছে। আইনশৃঙ্খলায় পুলিশ, আদালত ও প্রশাসনের ভূমিকা আছে। অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রাজস্ব প্রশাসন—সবাই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ‘মন্ত্রী বদল’কে একমাত্র সমাধান বানানোও ভুল হবে। প্রয়োজন দায়িত্ব নির্ধারণ, ফলাফল পরিমাপ এবং ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহির সংস্কৃতি।
সরকারের ছয় মাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শিক্ষা হলো—জনগণ এখন আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা ফল দেখতে চায়। বিদ্যুৎ চাই, নিরাপত্তা চাই, শিক্ষায় স্থিরতা চাই, কৃষকের ন্যায্যমূল্য চাই, বাজারে স্বস্তি চাই, হাসপাতালে চিকিৎসা চাই।
অতএব মন্ত্রিসভার সামনে এখন তিনটি পথ। প্রথমত, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি প্রকাশ করা। তৃতীয়ত, ব্যর্থতার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় নির্ধারণ করা।
কোনো মন্ত্রীকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে রক্ষা করা হলে তার মূল্য দিতে হয় পুরো সরকারকে। আবার কোনো মন্ত্রীকে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনার ভিত্তিতে সরিয়ে দিলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন।
বর্তমান মন্ত্রিসভায় কে ‘সবচেয়ে ব্যর্থ’—এই প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সরকার নিজেই কি নিজের কর্মদক্ষতার নিরপেক্ষ বিচার করতে প্রস্তুত?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘটনায় যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা সতর্কবার্তা। বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে দীর্ঘস্থায়ী সংকট আরেকটি সতর্কবার্তা। কৃষকের সার ও ন্যায্যমূল্যের প্রশ্ন তৃতীয় সতর্কবার্তা। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষের নিরাপত্তাবোধ চতুর্থ। আর বাজারে উচ্চমূল্য ও কর্মসংস্থানের চাপ অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় সতর্ক সংকেত।
এসব সংকেতকে বিরোধীদের অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেওয়া আত্মঘাতী হবে। আবার সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে ব্যর্থ বলে প্রচার করাও দায়িত্বশীল রাজনীতি নয়। সত্য হলো—সরকার কিছু ক্ষেত্রে এগিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে হোঁচট খেয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এখনও ফল দেখাতে পারেনি।
ছয় মাসে তাই মন্ত্রিসভার জন্য চূড়ান্ত রায় নয়, বরং সতর্কবার্তা এসেছে। এখন সময় আত্মতুষ্টির নয়; আত্মসমালোচনার।
সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কোনো মন্ত্রীর পদ টিকিয়ে রাখা নয়, জনগণের আস্থা টিকিয়ে রাখা। যে মন্ত্রী পারবেন, তিনি থাকবেন; যে পারবেন না, তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে—দলীয় পরিচয় বা ক্ষমতার সমীকরণ দিয়ে নয়, কাজের ফল দিয়ে।
কারণ শেষ পর্যন্ত জনগণ মন্ত্রীদের বক্তৃতা দিয়ে নয়, তাদের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে—সেই হিসাবেই সরকারকে বিচার করবে।