‘শান্তির জন্য নোবেল পাওয়ার যোগ্য আমি’, ফের দাবি ট্রাম্পের


নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের আগে আত্মবিশ্বাসী মার্কিন প্রেসিডেন্ট; ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরলেন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক


শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা আবারও জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বিশ্বে বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে ভূমিকার কারণে এ পুরস্কারের জন্য তিনি যথেষ্ট যোগ্য। তবে নোবেল কমিটি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তিনি।


বুধবার (৭ অক্টোবর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা তিনি জানেন না। তবে তাঁর মতো ব্যক্তিদের পুরস্কার না দেওয়ার একটি ‘ঐতিহ্য’ কমিটির রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের অবসানে তাঁর প্রশাসনের উদ্যোগকে এর পক্ষে প্রধান যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়ার পর অন্তত আটটি আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তিনি হস্তক্ষেপ করেছেন।


এদিকে কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গত বছর শান্তিতে নোবেল পাওয়া ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোও ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্যে সম্মান জানিয়েছেন।


তবে ট্রাম্পের সংঘাত নিরসনের দাবিকে ঘিরে রয়েছে বিতর্ক। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর ভূমিকার মূল্যায়ন এক নয়। কিছু এলাকায় সমঝোতার পরও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান আনতে পারেননি ট্রাম্প।


অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব পড়ায় বিশ্ববাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এসব বাস্তবতার মধ্যেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নিজের যোগ্যতার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির নামও উঠে এসেছে।