রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনর্গঠিত, সেবা চালুতে এখন প্রয়োজন চিকিৎসা সরঞ্জাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি নতুন রূপে সাজানো হলেও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে এখনো প্রয়োজন আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জামের।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটির মূল ভবন সংস্কার শেষে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়েছে। ভবনের দেয়াল আকাশি নীল ও সাদা রঙে রাঙানো হয়েছে। বসানো হয়েছে নতুন দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক পাখা এবং পানির সংযোগ। ভাঙা সীমানাপ্রাচীর মেরামত করে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের খাবার ঘর ও প্রবেশপথের টিনশেডও সংস্কার করা হয়েছে।
তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলেও চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় আসবাব, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণের ঘাটতি রয়ে গেছে। কেন্দ্র পরিচালনা কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ চলছে। আপাতত মিরপুর-১০ কেন্দ্র থেকে কিছু পুরোনো আসবাব এনে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, উদ্ধার হওয়া কিছু সামগ্রী ব্যবহারযোগ্য কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। সেবা পুরোপুরি চালু করতে অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, সীমিত পরিসরে টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রয়েছে। তবে ভাঙচুরের ঘটনার পর অনেক সেবাগ্রহীতার মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা কাজ করছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে কেন্দ্রটি আগের মতো নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে কেন্দ্রটিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে ওষুধ, টিকা, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভবনের বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়। পরে স্থানীয় উদ্যোগে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হয়।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, কেন্দ্রটির সংস্কারকাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এটি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। তিনি হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্রটি মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্কার শেষ হওয়ায় সেবা পুনরায় স্বাভাবিক করার আশা জোরালো হয়েছে। এখন প্রয়োজন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবের ব্যবস্থা করে কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম দ্রুত চালু করা।