কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করবেন। কানাডা ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়ানো এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সফরকালে বাংলাদেশের সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে প্রতিমন্ত্রী সারাইয়ের। এ ছাড়া ঢাকা ও কক্সবাজারে কানাডার সহায়তায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ পরিদর্শন করবেন তিনি।
কানাডার আন্তর্জাতিক সহায়তা কীভাবে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী ও তরুণদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে, তা এ সফরে তুলে ধরা হবে। এসব উদ্যোগ টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতেও সহায়ক হচ্ছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কানাডা ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ও আইসিডিডিআর,বির মতো বাংলাদেশভিত্তিক সংস্থার কার্যক্রমে কানাডার দীর্ঘদিনের সমর্থন উল্লেখযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠান পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।
দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে কানাডা। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুশাসন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন ও সংস্কার অব্যাহত থাকলে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি হবে। এতে উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের এ সময়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও কানাডার অংশীদারত্ব ভূমিকা রাখছে।
কক্সবাজার সফরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রতিমন্ত্রী সারাই। পাশাপাশি চলমান সংকট মোকাবিলায় কাজ করা বিভিন্ন অংশীজনের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানবেন তিনি।
২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডা ৬০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য উল্লেখযোগ্য সহায়তা রয়েছে।
কানাডা মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অভিন্ন সমৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।