মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) মুখোমুখি অবস্থানের কারণে নতুন আটতলা ভবন নির্মাণকাজ আটকে গেছে। সব সরকারি দপ্তরকে এক ছাতার নিচে এনে সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চত্বরে ১৮ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দে এই আটতলা ভবন নির্মাণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তবে ঠিকাদার নিয়োগের পর কাজ শুরু করতে গেলেই বিপত্তি ঘটে, কারণ প্রস্তাবিত স্থানে থাকা বিআরডিবির পুরোনো ভবনটি সরাতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের পুরো উন্নয়ন বাজেট ফেরত যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী একই চত্বরে সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতেই এই উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ভবনটি নির্মাণ করা না গেলে সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী প্রকল্পের বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে। অন্যদিকে বিআরডিবি কর্তৃপক্ষের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত এবং বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া কোনোভাবেই জায়গা ছাড়া সম্ভব নয়। বিআরডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুটি প্রশাসনিক রেজুলেশন অনুযায়ী বর্তমান ভবন ভাঙার কোনো এখতিয়ার আরডিও-র নেই। মহাপরিচালক বা উপপরিচালকের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরবেন না।
দুই দপ্তরের এই রেষারেষির মাঝখানে পড়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বিআরডিবিতে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বর্তমানে ব্যবহৃত ভবনটির দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। এরই মধ্যে কর্মচারীদের দু'বার উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের আবাসন ও কার্যালয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।
বিদ্যমান সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক বিআরডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণের কথা বিবেচনা করে ভবনটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহায়তা করার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত জটিলতা কাটিয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১৮ কোটি টাকার এই বড় প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।