জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্র অঞ্চলের তীব্র খরা, ভূগর্ভস্থ পানির সংকট এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামের বাস্তব চিত্র এবার বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে যাচ্ছেন নওগাঁর তরুণ জলবায়ু কর্মী মো. মামুনুর রেজা স্বাধীন। তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৩১তম আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে (COP-31) নওগাঁর প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে বেড়ে ওঠার কারণে পানির সংকট, প্রখর তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের মারত্মক নেতিবাচক প্রভাবগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন এই তরুণ। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অঞ্চলের মানুষের লড়াই আর ন্যায্য দাবির কথা জোরালোভাবে তুলে ধরার তাগিদ অনুভব করেন তিনি।
আসন্ন এই বিশ্ব সম্মেলনে মূলত জলবায়ু অভিযোজন (Adaptation), ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান (Loss and Damage) এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের (Nature-based solutions) ওপর বিশেষ জোর দিতে চান মামুনুর।
এ বিষয়ে তরুণ এই জলবায়ু কর্মী বলেন, "শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জলবায়ু সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের সুরক্ষা, অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জলবায়ু তহবিলের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।"
আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের নানা ত্রুটির কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "আন্তর্জাতিক অনুদানের বড় একটি অংশই প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক কাজে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছায় না। বাংলাদেশ যে ধরনের জলবায়ু ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তা মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন আদায়ে জোরালো দাবি তোলা দরকার।"
সম্মেলন শেষে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দিকনির্দেশনা নওগাঁসহ পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলের তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি, জলবায়ু সুরক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করে নতুন নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মো. মামুনুর রেজা।