লোহাগাড়ায় কথিত অপহরণের অভিযোগের আড়ালে চুরির রহস্য উদ্ঘাটন, ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার ক্যামেরা ও সরঞ্জাম উদ্ধার। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুরির ঘটনা আড়াল করতে নিজেই আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগে মোঃ রেদুয়ানুল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা আড়াল করে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে স্ত্রীকে দিয়ে থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করান তিনি। অবশেষে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা। গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ক্যামেরা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে লোহাগাড়া থানাধীন আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের প্রথম তলায় অবস্থিত ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ নামের দোকানটি বন্ধ করে প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যান মালিক বাবলু পাল। পরদিন ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে দোকানে ফিরে তিনি দেখতে পান, দোকানের স্লাইডিং গ্লাসের দরজার তালা খোলা এবং ভেতরে থাকা মূল্যবান ক্যামেরা ও সরঞ্জামাদি চুরি হয়ে গেছে।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল তিনটি SONY α7III ক্যামেরা, একটি SONY α7C ক্যামেরা, বিভিন্ন মডেলের আটটি ক্যামেরা লেন্স, দুটি ক্যামেরার ব্যাটারি ও একটি চার্জার। এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা।
এদিকে, ঘটনার দুই দিন পর ১২ অক্টোবর রেশমী আক্তার নামে এক নারী লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী মোঃ রেদুয়ানুল হককে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে।
চুরির ঘটনা ও কথিত অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর লোহাগাড়া থানা পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ দোকানসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে চুরির ঘটনায় রেদুয়ানুল হকের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। একই সঙ্গে কথিত অপহরণের অভিযোগের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টিও পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে লোহাগাড়া থানার পুলিশ। অভিযানে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা, আওয়ার পাড়া এলাকা থেকে মোঃ রেদুয়ানুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বসতঘর থেকে চুরি যাওয়া সব ক্যামেরা ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে চুরির ঘটনা আড়াল করে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নিজেই আত্মগোপনে থেকে স্ত্রীকে দিয়ে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করানোর বিষয়টিও স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় লোহাগাড়া থানা পুলিশের তদন্তে চুরির রহস্য উদ্ঘাটন এবং বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।