ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের মাঠে বোর্নমাউথের কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। একের পর এক হতাশাজনক পারফরম্যান্সে বিপর্যস্ত দলটি এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচে জয়হীন থাকল। নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এমন হারে সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে মাইকেল ক্যারিকের দল।
রোববার অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বোর্নমাউথ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করে সফরকারীরা। বিরতির পর আরও একটি গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে দলটি।
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড হায়ানের গোলে এগিয়ে যায় বোর্নমাউথ। পাঁচ মিনিট পর, ৪৩তম মিনিটে মার্কাস ট্যাভারনিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বরং ৭১তম মিনিটে ইভানলিসনের দারুণ এক গোলে ব্যবধান ৩-০ করে বোর্নমাউথ। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়। ম্যাচের আগে আলোচনায় ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেস। গত বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমোর কাছে ৪-১ গোলে হারের পর কোচ ক্যারিকের কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার। এর পর বোর্নমাউথের বিপক্ষে তাঁকে শুরুর একাদশে রাখেননি কোচ। ক্যারিক অবশ্য বিষয়টিকে নিছক ফুটবলীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ফের্নান্দেসকে মাঠে নামাননি কোচ। পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসেই দলের পরাজয় দেখতে হয় ইউনাইটেড অধিনায়ককে। তাঁর অনুপস্থিতিতেও ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয় দলটি। ম্যাচ শেষে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সমর্থকদের দুয়োধ্বনি শুনতে হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে। এই পরাজয়ে লিগে দলটির অবস্থান আরও নাজুক হয়েছে। আট ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৬তম স্থানে নেমে গেছে ইউনাইটেড।
গত ৩০ আগস্ট ইপসউইচ টাউনকে ৫-২ গোলে হারানোর পর থেকে লিগে আর জয়ের দেখা পায়নি ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। ধারাবাহিক ব্যর্থতায় দলের পারফরম্যান্স, কোচের কৌশল এবং খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে লিগে আরও পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।