চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রায় সব এলাকা জুড়ে মাদকের আকড়ায় পরিণত হয়েছে। নগরীতে এমন কোন স্থান নাই যেখানে মাদকের বেচাকেনা এবং সেবনকারী নাই। পুলিশের তালিকার বাইরে ও স্থানগুলোতে মাদক বেচাকেনা এবং সেবনকারী অবস্থান করে মাদক ব্যবসায়ীরা এক স্থানে না থেকে এখন সব স্থানে তাদের মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিহাদ ঘোষণা করলেও কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না মাদক বিক্রি এবং সেবন।
মাদক কাণ্ডে পুলিশের লোকজন জড়িত থাকায় মাদক বিক্রি এবং মাদক সেবন চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অনেকের অভিমত। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও প্রশাসনিক লোকজন এতে জড়িত রয়েছে তাই পুরোপুরি সফলতার মুখ দেখছে না এই অপারেশন।
বার্তা বিচিত্রার অনুসন্ধানে জানা যায় নগরজুড়ে যে সকল কলোনি রয়েছে সেগুলোতে মাদক ব্যবসায়ীরা অবস্থান করে পুরো চট্টগ্রাম নগরীতে মাদক বেচা কেনায় ব্যস্ত থাকে। বিশেষ করে বন্দরটিলা এলাকা সিএনবি বরিশাল কলোনি রৌফাবা বিহারী কলোনি ঝাউতলা কলোনি চকবাজার এলাকা নিউ মার্কেট এলাকা সদরঘাট এলাকা কালুরঘাট এলাকা নতুন ব্রিজ চাক্তাই এলাকা সহ আরো অনেক জায়গায় মাদকের বিস্তার হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন।
এসব কলোনিতে প্রতিদিন পুলিশি অভিযানে কেউ না কেউ গ্রেফতার হওয়ার পরেও থামছে না মাদক বিক্রি। নগরীর প্রবেশ মুখগুলো দিয়ে পুলিশি টহল ব্যবস্থা জোরদার থাকলেও অনায়াসে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক নিয়ে নগরীতে প্রবেশ করছে নিরাপদ ভাবেই। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মাদক নগরীতে প্রবেশের সময় পুলিশের সহযোগিতা থাকে বলে অনেকের অভিযোগ। নগরীর থানাগুলোতে বিভিন্ন সময় অভিযানে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান। কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মাদক বহনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে সাধারণ মানুষের ধারণা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা বিচিত্রা কে বলেন নগরীর কলোনি গুলো বাদ দিয়ে এখন আবাসিক এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ভাড়া বাসা নিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। এতে অনেক সময় এসব এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হলেও খুব কম সময়ে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো মাদক ব্যবসা চালিয়ে যায়।
পুরো যুব সমাজ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িয়ে গেছে এবং নতুন নতুন মাদক সেবনকারী যুক্ত হচ্ছে তাদের এ দলে। বিশেষ করে আগস্ট ২৪ এর পরবর্তী সময়ে যেভাবে ওপেন সারা দেশে মাদক ব্যবসায়ী ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেবনকারী বেড়েছে তাতে কোনভাবেই পেছনে পেরে আসা যাচ্ছে না বলে সুশীল সমাজ ধারণা করছেন। তবে এক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরো সচেতন হতে হবে বলেও বিজ্ঞ মহল মনে করেন।
শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত এবং অনেক মহিলা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে তারা মাদক ব্যবসার পাশাপাশি নিজেরাও সেবন করে এবং আশেপাশের সকল বয়সীদের মাদক সেবনে আগ্রহী করে তোলে। মাদক বন্ধে সরকার যে সকল কর্মকান্ড পরিচালিত করে যাচ্ছে তা উপযুক্ত নয় বলেও অনেকের ধারণা।