ব্যাটিংয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর স্পিনারদের নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগিয়েছে বাংলাদেশ। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭২ রানে অলআউট হয়।

দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তেজনারায়ণ চন্দরপল ৪৩ এবং জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম দুটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট নিয়েছেন। পেসার হাসান মাহমুদও একটি উইকেট শিকার করেন। আলোকস্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে দিনের খেলা সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে।

দিনের শুরুতে আগের দিনের ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। তবে সকালে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। শেষ সাত উইকেট মাত্র ৫৯ রানে হারিয়ে ২৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে সাদমান ইসলাম ১০৫ রান করেন। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা এই ওপেনার দিনের দ্বিতীয় বলেই দুই রান নিয়ে নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ২২১ বলের ইনিংসে তার ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের আশা দেখেছিল। তবে সাদমানের বিদায়ের পর ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে।

তাওহিদ হৃদয় ৪২ এবং লিটন দাস অপরাজিত ৩৪ রান করেন। হৃদয় আগের দিন পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছেড়েছিলেন। সাদমানের বিদায়ের পর আবার ব্যাটিংয়ে নামলেও আগের দিনের সংগ্রহের সঙ্গে আর রান যোগ করতে পারেননি তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুঁড়িয়ে দেন। এটি তার চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি। অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার জশুয়া বিশপও ৬১ রানে দুটি উইকেট নেন। তিনি সাদমানকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেট শিকার করেন এবং পরে তাওহিদ হৃদয়কে আউট করেন। শামার জোসেফও দুটি উইকেট নেন।

২৭৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতে ভালো অবস্থানে ছিল। তবে বাংলাদেশের বোলাররা ধীরে ধীরে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর চেষ্টা করেন। হাসান মাহমুদ ১৫ রানে ব্র্যান্ডন কিংকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন।

এরপর জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারায়ণ চন্দরপল জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ক্যাম্পবেল টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ অর্ধশতক পূর্ণ করেন। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে লং-অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে ৫০ রান পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫৪ রান করে শান্তর হাতে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ক্যাম্পবেল।

আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ থাকার পর মাঠে ফিরে উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর তাইজুল ইসলাম একই ওভারে কেভাম হজ ও আমির জাঙ্গুকে ফিরিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলেন। হজ ৭ রান করেন, আর জাঙ্গু কোনো রান না করেই আউট হন। ফলে ৯৭ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তবে তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস দিনের বাকি সময়ে আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি। ১৪৫ বল মোকাবিলা করে ৪৩ রান করা চন্দরপল ধৈর্যের পরিচয় দেন। অন্য প্রান্তে গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন।

দ্বিতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৩৮ রান পিছিয়ে রয়েছে, হাতে আছে ছয় উইকেট। ফলে তৃতীয় দিনে দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পারফরম্যান্স।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৭২ রান। সাদমান ইসলাম ১০৫, তাওহিদ হৃদয় ৪২, লিটন দাস ৩৪*। জোমেল ওয়ারিকান ৫/৫৩।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। জন ক্যাম্পবেল ৫৪, তেজনারায়ণ চন্দরপল ৪৩*, জাস্টিন গ্রিভস ১৫*। তাইজুল ইসলাম ২/৪৪।