১৩৫ মেট্রিক টন চালে অ্যাফ্লাটক্সিন পাওয়ার খবর সঠিক নয়, দাবি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের
ভারত থেকে আমদানিকৃত সিদ্ধ চালের একটি চালান নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও তথ্যের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে নিযুক্ত শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস এজেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আমদানিকৃত চালের পুরো চালান বাতিল কিংবা জাহাজ ফেরত যাওয়ার যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। বরং সরকারি নিয়ম মেনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুমোদনের পর চাল খালাসের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এজেন্টের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে জানানো হয়, ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ (MV HT Pioneer) নামের জাহাজটি গত ২১ জুলাই ২০২৬ ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে ১০ হাজার ৮৭৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
সরকারের প্রচলিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খাদ্য অধিদপ্তর জাহাজ থেকে চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। পরীক্ষার পর চাল গ্রহণ ও খালাসের অনুমোদন দেওয়া হলে শুরু হয় খালাস কার্যক্রম।
পরবর্তীতে খাদ্য গুদামে চাল গ্রহণের সময় কিছু বস্তায় চালের রঙ এবং কয়েকটি কার্নেলের মান নিয়ে আপত্তি ওঠে। তবে কোনো চাল পচা বা নষ্ট ছিল না বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আপত্তিকৃত চাল বাছাই ও আলাদা করার পর সফলভাবে পুরো চাল খালাস করা হয়। গত ১০ আগস্ট ২০২৬ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চাল খালাসের পর অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে খাদ্য অধিদপ্তর চালের কিছু অতিরিক্ত গুণগত মান পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে সংগৃহীত নমুনা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) পাঠানো হয়। একই সময়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও ভারতের একটি পরীক্ষাগারে একই নমুনা পরীক্ষা করায়।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দাবি, উভয় পরীক্ষাগারের ফলাফলে চালের নমুনায় মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রায় কোনো অ্যাফ্লাটক্সিন (Aflatoxin) শনাক্ত হয়নি। অথচ এরই মধ্যে ১৩৫ মেট্রিক টন চালে অ্যাফ্লাটক্সিন পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামে সংরক্ষিত চাল মানসম্মত এবং নির্ধারিত বিনির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্য সরবরাহের বাজারে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য কর্মসূচির জন্য সিদ্ধ চাল আমদানিতে ভারতের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরশীলতা রয়েছে। কারণ, অন্যান্য অনেক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত সিদ্ধ চাল সরবরাহ করতে সক্ষম নয়।
এ অবস্থায় যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া অতিরঞ্জিত বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য আমদানি, সরকারি ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
খাদ্য নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন এবং প্রকৃত তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস এজেন্ট। একই সঙ্গে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।