নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার মান্দা, সদর থানা এবং বদলগাছী এলাকায় রাতভর মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযানে ২৪ কেজি গাঁজাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি আভিযানিক দল জানতে পারে যে, মান্দা থানা এলাকায় একটি বাড়িতে বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদকদ্রব্য গাঁজা মজুদ করে রাখা হয়েছে।
প্রথম অভিযান (মান্দা):
প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোর রাত ৫টার দিকে মান্দা থানার রঘুনাথপুর গ্রামের জনৈক আরিফ হোসেনের (৩০) বসতঘরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তল্লাশী চালায় ডিবি টিম। এ সময় আসামির ঘরের স্টিলের ট্রাঙ্কের ভেতর থেকে ৪ কেজি ওজনের ৫টি পোটলায় মোট ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং আসামি আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে আরিফ ওই এলাকার বাসিন্দা।
দ্বিতীয় অভিযান (নওগাঁ সদর):
গ্রেফতারকৃত আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নওগাঁ সদর থানাধীন কুমাইগাড়ি এলাকায় জনৈক ফারুক হোসেনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় আভিযানিক দল। সেখানে মৃত কাশেমের ছেলে মোশাররফ হোসেনের (৩৩, পৈত্রিক নিবাস মহাদেবপুর) বসতঘরের চৌকির নিচ থেকে বাজার করার ব্যাগে বিশেষ কায়দায় রাখা ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মোশাররফকে গ্রেফতার করা হয়।
তৃতীয় অভিযান (বদলগাছী):
এরপর আসামি মোশাররফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সকাল ১০টার দিকে বদলগাছী থানাধীন নিহিনপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখানে আসামি শিলংয়ের (২৩) শয়নকক্ষ তল্লাশী করে আরও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কারবারে সহযোগিতার অভিযোগে তার সহযোগী অপর আসামি আরাফাতকেও (২৩) গ্রেফতার করা হয়। শিলং ও আরাফাত উভয়ের পিতার নাম শহিদুল ইসলাম।
মামলা ও পুলিশের বক্তব্য:
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে নওগাঁ জেলা পুলিশ সবসময় সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।