সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশির লাশের অপেক্ষায় স্বজনেরা

Date: 2026-03-19
news-banner

সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়ে মারা গেছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের যুবক আবদুল্লাহ আল মামুন (৩৫)।  

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদুল ফিতরের এক মাস পর দেশে ফেরার কথা ছিল মামুনের। নতুন বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।  

নিহত মামুন শহীদ সওদাগরের ছেলে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ছিলেন। সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ১৫ বছর আগে সৌদি আরবে যান। সর্বশেষ পাঁচ বছর আগে দেশে এসেছিলেন। তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০) ও ছয় বছরের ছেলে মাহেদী শেখ রয়েছে।  

৮ মার্চ ইফতারের আগমুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হন মামুন। হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।  

মামুনের মৃত্যুর খবর বুধবার দেশে পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। মা শাহিদা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবারে টেকার জন্য বিদেশ পাঠাইছি। বাড়িঘর করবাম কইছিল, কিন্তু কিছুই করতে পারল না। সরকারের কাছে আবেদন জানাই, লাশ যত তাড়াতাড়ি পারে দেশে আনা হোক।”  

বাবা শহীদ সওদাগর বলেন, “আমরা কীভাবে চলব, নাতি কীভাবে চলবে—সরকার একটা পথ বের করুক। লাশ দেশে এনে দাফন করার ব্যবস্থা করুক।”  

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন এম আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, নিহতের পরিবারের কাছে ঈদের সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রচেষ্টা চলছে।  

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারকে সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মরদেহ দেশে এসে দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর স্ত্রী ও পরিবারের স্বনির্ভরতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।  

Leave Your Comments