মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং এখন আর কোনো নতুন সংঘাতে জড়াতে চায় না।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে রুবিও এই বক্তব্য দেন। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় এই প্রথমবারের মতো তিনি সরাসরি ব্রিফিং রুমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
রুবিও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নতুন প্রতিরক্ষামূলক অভিযান শুরু করেছে। তার ভাষায়, এটি আগের সামরিক অভিযানের অংশ নয় এবং এর উদ্দেশ্য আক্রমণ নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, “অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়েছে। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি। আমরা আর কোনো সংঘাত চাই না, আমরা শান্তি চাই এবং প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তির দিকে অগ্রসর হতে চান।”
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ঘিরে দেশটির ভেতরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের কিছু সদস্য অভিযোগ করছেন, প্রেসিডেন্ট ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ আইন লঙ্ঘন করেছেন, যেখানে বলা আছে—কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান সর্বোচ্চ ৬০ দিনের বেশি চালানো যাবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানানো হয়। পরে ওই সময় থেকে ৬০ দিনের সময়সীমা গণনা শুরু হয়, যা গত ১ মে শেষ হয়েছে।
এই সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগেই হোয়াইট হাউস জানায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা হয়েছে।
নতুন ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সম্পর্কে রুবিও বলেন, এটি তুলনামূলক ছোট পরিসরের প্রতিরক্ষামূলক মিশন। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরাসরি হামলা না হলে তারা আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ১০ জন বেসামরিক নাবিক নিহত হয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া প্রায় ২৩ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ঘিরে সামরিক অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ ঘোষণা করা হলেও নতুন প্রতিরক্ষামূলক মিশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাব বজায় রাখছে।