দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর ধীরগতির কার্যক্রম বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বুধবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘দ্য কম্পাস ডায়লগ’ শীর্ষক সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর) আয়োজিত এই সংলাপে বিদেশি বিনিয়োগকারী, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানে অনেক ধীরগতিতে কাজ করে। এতে সময়মতো ইস্যু সমাধান না হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েন, যা বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেন, “ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে—আমলাতন্ত্র সংস্কার, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত এসব বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন।”
অর্থনীতি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে এবং কৃষি, ফ্যামিলি কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির চেষ্টা চলছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক গ্যাস-তেল অনুসন্ধান জোরদার করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ খাতে দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশে স্থিতিশীলতা পুরোপুরি না এলেও পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে।
এছাড়া তিনি বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা সংকটকেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রচেষ্টার কথা জানান।