কুলিয়ারচরে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার: সন্দেহ মাদকসংক্রান্ত বিরোধ

Date: 2026-05-14
news-banner

মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:


কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদ সংলগ্ন একটি পতিত জমি থেকে মোঃ হানিফ মিয়া (৩৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৮টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত হানিফ মিয়া ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকার টুকু মিয়ার বাড়ির মোঃ ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সমিল শ্রমিক ও কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের শশুর মোঃ বকুল মিয়া, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লসকর মিয়ার ছেলে মোঃ জাকির হোসেন হানিফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হানিফ তার স্ত্রী আয়েশার মোবাইল ফোনে কল করে বলেন, আমাকে বাঁচাও, জাকির হোসেনরা আমাকে মেরে ফেলবে। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত লসকর মিয়ার বাড়িতে ছুটে গেলেও বাড়ির সব গেট বন্ধ থাকায় বাড়ির ভিতরে ডুকতে পারেনি কেউ। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে হানিফকে খোঁজাখুঁজি করে লসকরের বাড়ির প্রায় দেড়শ ফুট পূর্ব পাশে একটি পতিত ধানক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর লসকর মিয়া পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে অভিযুক্ত জাকির হোসেনসহ অন্যরা পালিয়ে যান। ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজিত জনতা লসকর মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় বেল্ডিং ঘরের ভিতরে ও বাহিরে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরতে দেখা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, লসকরের পুত্র জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবাসার সাথে জড়িত। সে ফরিদপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহ করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরীফ উদ্দিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

Leave Your Comments