আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি Diego Maradona–র মৃত্যু নিয়ে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিস্ফোরক দাবি করেছেন এক চিকিৎসক। তাঁর মতে, একটি সাধারণ ডাইউরেটিক ওষুধ প্রয়োগ করা হলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব ছিল।
গত বৃহস্পতিবার সান ইসিদ্রোর আদালতে সাক্ষ্য দেন নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ Mario Schiter। তিনি আদালতকে বলেন, “প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হতে পারত।”
২০০০ সালের শুরুতে ম্যারাডোনার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডা. শিটার। এছাড়া ২০২০ সালে কিংবদন্তি এই ফুটবলারের ময়নাতদন্তেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। ওই বছরের ২৫ অক্টোবর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
আদালতে শিটার ব্যাখ্যা করেন, হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে গেলে ডাইউরেটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তাঁর ভাষায়, “আইসিইউতে আমি প্রতিদিন এমন রোগী দেখি। শরীরে জমে থাকা তরল কমাতে ডাইউরেটিক দিলে অনেক রোগী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।”
এর আগে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে উঠে আসে, মৃত্যুর সময় ম্যারাডোনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অতিরিক্ত তরল জমেছিল। ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া আরেক চিকিৎসক Carlos Casinelli বলেন, “ম্যারাডোনার শরীরের সব জায়গাতেই পানি জমে গিয়েছিল।”
ক্যাসিনেলির মতে, শরীরে এভাবে তরল জমতে অন্তত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। অর্থাৎ চিকিৎসকেরা চাইলে আগেই তাঁর অবস্থার অবনতি শনাক্ত করতে পারতেন।
২০২০ সালে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ম্যারাডোনাকে হাসপাতালে রেখে পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন ডা. শিটার। কিন্তু পরে Diego Maradona বুয়েনস এইরেসের উত্তরের একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে সুস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানেই ৬০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
বর্তমানে ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বিচারপ্রক্রিয়া আগামী জুলাই পর্যন্ত চলবে।