রাজশাহীতে শিশু হত্যার প্রতিবাদে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

Date: 2026-05-18
news-banner

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাত হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে একাধিক দফা ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

রোববার (১৭ মে) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত দুর্গাপুর উপজেলার হাট কানপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় চার ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিশুটির মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে গত শনিবার দুপুরে বাড়ির কাছ থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে একটি খেজুরগাছের নিচে শিশু হুমায়রার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ থাকার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর মরদেহটি পাওয়া যায়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলতে বের হওয়ার পর শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা রাতভর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালালেও তার সন্ধান মেলেনি।

পরদিন সকালে শিশুটির বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের সন্ধানদাতার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। কয়েক ঘণ্টা পরই বাড়ির পাশে তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

ঘটনার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অভিযোগ করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। নিহত শিশুর পরিবারও একই অভিযোগ তুলেছে।

রোববার বিকেলে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স হাট কানপাড়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ মানুষজন সেটি আটকে দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় মানববন্ধন ও বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তারা বিচার দাবি করেন। এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অবরোধকারীদের সঙ্গে কয়েক দফা ধস্তাধস্তি হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এক পর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত তদন্ত ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে শিশুটিকে দাফন করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

Leave Your Comments