মদনে খাদ্যগুদাম কেলেঙ্কারি: ২০ টন চাল জব্দের পর আরও ৪৩ টনের বেশি চালের অনিয়মের সন্ধান, গুদাম সিলগালা

Date: 2026-05-18
news-banner

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে চাল পাচারের অভিযোগে ২০ টন চাল জব্দের ঘটনার পর তদন্তে আরও বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন করে প্রায় ৪৩ টন ৫৬০ কেজি অতিরিক্ত চালের সন্ধান পেয়েছে খাদ্য বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক সেলিমুল আজম।

পুলিশ, খাদ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মদন উপজেলা থেকে ৬৬৭ বস্তায় প্রায় ২০ টন সরকারি চাল একটি ট্রাকে করে বারহাট্টা উপজেলার একটি রাইস মিলের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনা–মদন সড়কের হাঁসকুঁড়ি মৈধাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি আটক করে পুলিশ।

পরবর্তীতে সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে সরকারি সিলযুক্ত ওই ট্রাকটি জব্দ করা হয়। ঘটনায় ট্রাকচালক ও তার সহকারীকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় আটক দুইজনের পাশাপাশি মদন উপজেলার মনোহরপুর এলাকার এনামুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৮–১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার পর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পাশাপাশি খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজম সরেজমিন তদন্ত শুরু করেন।

তদন্ত চলাকালে গুদামের মজুত যাচাইয়ে হিসাবের বাইরে আরও ৪৩ টন ৫৬০ কেজি চাল পাওয়া যায়। এতে গুদাম ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অসংগতি ধরা পড়ে বলে জানান কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পরিচালক সেলিমুল আজম বলেন, অতিরিক্ত পাওয়া চাল গুদামের মূল মজুতের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আর জব্দ হওয়া ২০ টন চালের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান জানান, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave Your Comments