মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই ছিল বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শফিক মিয়ার। শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতা নিয়েও শ্রমের ঘাম ঝরিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সমাজের প্রান্তিক একজন মানুষ হয়েও তার ছিল দায়িত্ব, ছিল দুই কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অগণিত চিন্তা। কিন্তু সেই সংগ্রামী জীবনের শেষ পরিণতি হলো কালনী নদীর তীরে থাকা একটি নিথর দেহ।
শুক্রবার সকালে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কালনী নদীর তীর থেকে শফিক মিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একজন অসহায় শ্রমিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে স্থানীয়দের মনে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন, কি ছিল তার অপরাধ? কার স্বার্থে থামিয়ে দেওয়া হলো তার জীবনযুদ্ধ?
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদের পর সাবেক স্ত্রীর ভরণপোষণের টাকা পরিশোধের দায়িত্ব ছিল শফিক মিয়ার কাঁধে। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার মধ্যেও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন এবং বাকি ১০ হাজার টাকা জোগাড়ের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই টাকা সবসময় নিজের কাছে রাখতেন বলেও জানা যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, টাকার লোভে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
শফিক মিয়ার মৃত্যুর পর সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে তার দুই কন্যাসন্তান। যে বাবা প্রতিদিন সংগ্রাম করতেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে, সেই বাবার অনুপস্থিতি তাদের জীবনে তৈরি করবে গভীর শূন্যতা।
এলাকাবাসীর দাবি, একজন অসহায় মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। তাদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার শুধু শফিক মিয়ার পরিবারের জন্য নয়, সমাজে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাও জরুরি।
একটি প্রশ্ন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, একজন দরিদ্র ও অসহায় শ্রমিকের জীবন কি এতটাই সস্তা, যে সামান্য কিছু অর্থের লোভে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো?
এখন অপেক্ষা তদন্তের অগ্রগতি এবং সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার, কে বা কারা কেড়ে নিল শফিক মিয়ার জীবনের শেষ আশ্রয় ও তার দুই সন্তানের একমাত্র ভরসাকে।