নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাদারীপুরের শিবচরে একটি সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা উত্তে*জি- ত হয়ে টেবিল চাপড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভা*ই- রাল হয়েছে। এক মিনিটের ওই ভিডিওতে তাকে উত্তে- জিত হয়ে বিএনপি কর্মী ও উপস্থিত ব্যক্তিদের ধ- মক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা সমালোচনা।
সম্প্রতি ভা* ই রাল ভিডিওতে এমপিকে বলতে শোনা যায়, “কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?” একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, “এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খে- য়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচা* র করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।”
তার এমন বক্তব্য ও আচ* রণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের 'চর বাচামারা মৌলভীকান্দি' গ্রামে তারামিয়া নামে বিএনপির এক কর্মীর সাথে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে ওই এলাকার একটি মারা* মা*রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুইপক্ষের লোকজনই উপস্থিত ছিল। সালিশীতে একপক্ষকে এক লাখ টাকা জ-রি* মানা নির্ধারণ করেন এমপি। এরপর পর পরই শুরু হয় হট্ট*গো- ল। এ সময় উত্তে* জিত হয়ে যান সংসদ সদস্য। পরে বিএনপি কর্মীর তারামিয়াকে বেশ ধমক দেন।
ভুক্তভোগী তারামিয়া বলেন, 'ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। ওই সালিশ বৈঠকে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতি* বাদ করলে পরিস্থিতি উ- ত্ত্য*প্ত হয়ে ওঠে। শেষমেষ ১ লাখ টাকা জরি* মানাও করেন। যাকে জরিমানা করেন তিনি গরিব এবং অসহায় মানুষ। তার পক্ষে এই জরি* মানার অর্থ দেয়া সম্ভব নয়। '
তিনি আরও বলেন, 'যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত আসতেই পারে। একজন বিচা* রকের দায়িত্ব হলো সেসব কথা ধৈর্যসহকারে শোনা। তা না হলে সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে ঘরোয়া বা এক* তরফা বিচার হয়ে যায়।'
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে উত্তে* জনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারান। এ সময় সালিশে উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এক পর্যায়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে ভিডিওটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
পরে ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।
এদিকে জানতে চাইলে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, 'ঘটনাটিন এক থেকে দেড় মাস আগের। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না। পরে আমি গিয়েছি। সালিশের সময় উভয়পক্ষই কথা বলতেছিল। ত-র্কে জড়াইছিল। তারা বেশ প্যাচাপেঁচি করতেছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে বি-চা-র কাজটি বেশ সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে।'