‎গুলশানে স্পা সিন্ডিকেট, নেপথ্যে পুলিশ কর্মকর্তা

Date: 2026-06-22
news-banner

‎নিজস্ব প্রতিবেদক:
‎রাজধানীর অন্যতম অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা গুলশান-বনানী। ভিআইপি ব্যক্তি, কূটনৈতিক মিশন, শিল্পপতি ও তারকাদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় অবৈধ স্পা সেন্টার, সীসা লাউঞ্জ ও গেস্ট হাউসের আড়ালে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের একটি অংশে মাদক সেবন, দেহব্যবসা, ব্ল্যাকমেইলিংসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়।
‎স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, গুলশান-১ এলাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরুণীদের এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে শাহ আলম ও আলাউদ্দিন নামের দুই ব্যক্তির নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, আলাউদ্দিন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তদবির ও দালালি করেন এবং প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে দিনের তুলনায় রাতের বেলায় কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। এতে এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
‎অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গুলশান ও বনানী এলাকায় শতাধিক স্পা, গেস্ট হাউস ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের বিরুদ্ধে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত মাসোহারা লেনদেন হয়।
‎কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে গুলশান থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মিজানুর রহমান ও গুলশান ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সালমান ফারশির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
‎এদিকে, একটি স্পা সেন্টারের মালিকের সঙ্গে ইন্সপেক্টর (অপারেশন)-এর কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার। এছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি আদান-প্রদানের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
‎তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।

Leave Your Comments