কোয়ার্টারে মরক্কো, স্বপ্ন এখন ফাইনালের

Date: 2026-07-05
news-banner


 আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব মানেই একসময় ছিল চমক কিংবা সীমিত সাফল্যের গল্প। তবে সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে মরক্কো। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দলটি আর ‘বিস্ময়’ নয়, বরং হয়ে উঠেছে ধারাবাহিক শক্তি।

আফ্রিকার আর কোনো দল মরক্কোর মতো এতবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠেনি। কোয়ার্টার ফাইনালেও তাদের সাফল্য অনন্য। এমনকি সেমিফাইনালে খেলার কৃতিত্বও একমাত্র তাদেরই—২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে শেষ চারে পৌঁছায় তারা।

এবারের আসরেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে মরক্কো। কানাডাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দলটি। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে সেরা আটে জায়গা করে নেওয়া নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। এখান থেকেই ফাইনালের স্বপ্ন আরও বাস্তব হয়ে ওঠে, কারণ দূরত্ব মাত্র দুটি ম্যাচ।

পরিসংখ্যানও মরক্কোর পক্ষে কথা বলছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের জয়ের সংখ্যা এখন চারটি, যা আফ্রিকার অন্য সব দেশের সম্মিলিত নকআউট জয়ের সমান। ক্যামেরুন (১৯৯০), সেনেগাল (২০০২), ঘানা (২০১০) এবং মিসর (২০২৬)—এই চার দল মিলিয়ে যত জয়, মরক্কোর একারই তত।

এ ছাড়া দুই ভিন্ন বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবেও নতুন ইতিহাস গড়েছে তারা।

তবে এই পথ মোটেই সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের প্রমাণ করেছে দলটি। স্কটল্যান্ডকে ১-০ এবং হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে তারা নকআউট পর্বে ওঠে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে এগিয়ে যায়, এরপর কানাডাকে বিদায় করে নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনাল।

দলের খেলার ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। ২০২২ সালে ওয়ালিদ রেগুরাইয়ের অধীনে মরক্কোর মূল শক্তি ছিল রক্ষণভাগের দৃঢ়তা। তবে নতুন কোচ উয়াহবির অধীনে দলটি এখন আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। ফলে রক্ষণে কিছুটা দুর্বলতা দেখা গেলেও আক্রমণে এসেছে গতি ও সৃষ্টিশীলতা।

এই পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রেখেছেন ব্রাহিম দিয়াজ। রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার দলে যোগ করেছেন সৃজনশীলতা। পাশাপাশি আজ্জেদিন উনাহিও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রক্ষণে আশরাফ হাকিমি দলের অন্যতম ভরসা, যিনি আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

মরক্কোর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ২০০৯ সালে চালু হওয়া জাতীয় ফুটবল একাডেমি এবং ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আধুনিক প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স দেশের ফুটবল কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এনেছে। একই সঙ্গে ইউরোপে বেড়ে ওঠা মরক্কান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করাও সহজ হয়েছে।

ফলে বর্তমান মরক্কো দলটি শুধু প্রতিভার ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং একটি সুসংগঠিত কাঠামোর ফল।

কোচ উয়াহবির ভাষায়, “আমরা আর কোনো চমক নই, আমরা এখন প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী।”

২০২২ সালে মরক্কোর সাফল্য ছিল রূপকথার মতো। তবে এবার তাদের লক্ষ্য আরও বড়—শুধু ইতিহাস গড়া নয়, বরং আফ্রিকার ফুটবলকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যেখানে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর কল্পনা বলে মনে হবে না।

Leave Your Comments