তেহরানে খামেনির জানাজা, লাখো মানুষের ঢল ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন

Date: 2026-07-05
news-banner


ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রোববার (৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বিশিষ্ট ধর্মতাত্ত্বিক ও লেখক আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। তিনি কোমের সেমিনারি টিচার্স সোসাইটির সাবেক সদস্য এবং ইমাম সাদিক ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত।

ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো শোকাহত মানুষ জানাজায় অংশ নেন। নামাজ শুরুর আগেই মোসাল্লার ভেতরের সব স্থান পূর্ণ হয়ে গেলে কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আশপাশের সড়ক ও এলাকাও মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রচণ্ড গরমে উপস্থিত মানুষের স্বস্তির জন্য পুরো প্রাঙ্গণে পানি ছিটানোর মিস্টার স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা ঠান্ডা পানি ও পানীয় বিতরণ করেন। জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য মোবাইল মেডিকেল ইউনিট ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়।

জানাজার নামাজ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা, দ্বিতীয় ধাপে সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি ও জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জানাজা এবং তৃতীয় ধাপে তার নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মূলত মার্চে খামেনির দাফন হওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। চার মাস পর এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই আনুষ্ঠানিকতা সাত দিনব্যাপী চলবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়। শুক্রবার সেখানে শ্রদ্ধা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতারা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকে সাধারণ মানুষের জন্য শোকানুষ্ঠান শুরু হয়। দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নেন। তীব্র তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে খামেনির মরদেহে শ্রদ্ধা জানান।

কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পবিত্র শহর কোমে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

শেষ পর্যায়ে বৃহস্পতিবার মাশহাদে শোকযাত্রা শেষে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হবে।

Leave Your Comments