প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
সময়: ০৬:১২ পিএম
মুলাদী পৌর বাজারে মাংসের দোকানে স্বাস্থ্যবিধির সংকট
আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ
বরিশালের মুলাদী পৌর সুপার মার্কেটের কাঁচাবাজারে মাংস বিক্রির পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দোকান বন্ধ হওয়ার পর রাতে মাংস কাটার কাঠের গুঁড়ি (খাট্টা) ও দোকানের ভেতরে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত না করেই পরদিন সকালে একই খাট্টায় মাংস কেটে বিক্রি করায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, বাজার বন্ধ হওয়ার সময় কয়েকটি মাংসের দোকানের সামনে ও ভেতরে একাধিক বেওয়ারিশ কুকুর নিশ্চিন্তে খাট্টা ও মেঝেতে শুয়ে আছে। কোথাও কোথাও খাট্টায় লেগে থাকা রক্ত ও মাংসের অবশিষ্টাংশ কুকুর চেটে খাচ্ছে বলেও স্থানীয়রা জানান। এ দৃশ্য বাজারের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন যেসব কাঠের গুঁড়ির ওপর গরু ও খাসির মাংস কাটা হয়, রাতে সেগুলোই কুকুরের বিশ্রামস্থলে পরিণত হয়। পরে সেগুলো যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না করেই মাংস কাটার কাজে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রথম শ্রেণির মুলাদী পৌরসভার প্রধান বাজারে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মাংসের দোকানে কুকুর প্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মুলাদী বন্দরের ব্যবসায়ী আবুল কালাম খান বলেন, বিকেল ও সন্ধ্যার পর কুকুর মাংসের দোকানে ঢুকে পরিবেশ নোংরা করে। অনেক সময় যথাযথভাবে পরিষ্কার না করেই সেখানে মাংস বিক্রি করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ব্যবসায়ীদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, দোকানের চারপাশে নেট বা সুরক্ষাব্যবস্থা স্থাপন এবং প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, “মাংস ব্যবসায়ীদের নিয়ে দ্রুত সভা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সতর্ক করা হবে। এরপরও কেউ নিয়ম না মানলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।