প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
সময়: ১০:২২ এএম
কলেজ শিক্ষার্থীর উপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
বাবুল মিয়া প্রতিনিধি তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়াইন হাওরে কথিত অবৈধ ইজারাদারদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ, হামলায় আহত কলেজ শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের বিচার এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার(৭আগষ্ট) বাদ আছর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারে ‘মাটিয়াইন হাওরবাসী’ ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, মাটিয়াইন হাওরে বর্তমানে কোনো বৈধ ইজারাদার নেই। হাওরের কয়েকটি জলাশয়কে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র নিজেদের ইজারাদার পরিচয় দিয়ে সাধারণ জেলে ও স্থানীয় মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন ও হয়রানি করে আসছে। তারা অবৈধভাবে হাওরে আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকারও খর্ব করছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি মাটিয়াইন গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী শোহাগ ইজারাভুক্ত জলমহালের বাইরের এলাকায় শখের বশে মাছ ধরতে গেলে কথিত ইজারাদারের পাহারাদাররা তার ওপর নৃশংস হামলা চালায়। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে প্রায় ২০ মিটার দূরে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান শোহাগ। এ সময় ইজারাদারের পাহারাদার হিসেবে পরিচিত শিবরামপুর( মনতলা) গ্রামের খলিল মিয়া (৩০) ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তারা আরো বলেন, হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শোহাগের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তীব্র জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং মাটিয়াইন হাওরে অবৈধ ইজারাদারদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে হাওর এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ভাসমান পানিতে অবাধে মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শাহিনুর রহমান, মহিবুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, বিলাল মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।