তাহিরপুরে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে ২৬ জনের কাছ থেকে ৭৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বাবুল মিয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি  :

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে ২৬ জন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৭৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় উপজেলার ৫নং বাদাঘাট ইউনিয়নের বিন্নাকুলী গ্রামের বাসিন্দা মুর্শিদ মিয়া (৫১) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন মাস আগে লামাশ্রম গ্রামের ইয়াহিয়া (৩০) ও তার বাবা ফুল বক্স (৫৫) নিজেদের সরকারি গণনাকারী পরিচয় দিয়ে বিন্নাকুলী গ্রামে যান। তারা সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন।

অভিযোগকারী মুর্শিদ মিয়াসহ গ্রামের ২৬ জন বাসিন্দা প্রত্যেকে ৩ হাজার টাকা করে বিবাদীদের কাছে জমা দেন। এ হিসাবে মোট ৭৮ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
পরে ফ্যামিলি কার্ড না পাওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে জানালে তারা জানতে পারেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান বা তালিকাভুক্তির জন্য কোনো ধরনের টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। এরপর তারা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মুর্শিদ মিয়া ও কয়েকজন সাক্ষী টাকা ফেরত চাইতে বিবাদীদের লামাশ্রম গ্রামের বাড়িতে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়, গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মুর্শিদ মিয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইয়াহিয়ার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার বাবা ফুল বক্স মিয়া টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এলাকার একটি পক্ষ হয়তো আমার ছেলেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাহিরপুর থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানান, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম দেওয়ার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তদের আটকে অভিযান চলছে।