ডেট ফেল এবং ফিটনেস বিহীন গাড়ি যাত্রী পরিবহন করছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে।

স্টাফ  রিপোর্টার

​উত্তরবঙ্গের রুটে যাত্রী দুর্ভোগ: ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ‘ঢাকা মেট্রো জ-০৪-০৩৩২’ গাড়ির সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্রমবর্ধমান হারের মধ্যে যখন গণপরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন উত্তরবঙ্গের একটি রুটে চলাচলরত যাত্রীবাহী বাসের ফিটনেস নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ‘ঢাকা মেট্রো জ-০৪-০৩৩২’ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের একটি বাস নিয়মিতভাবে ফিটনেসবিহীন অবস্থায় যাত্রী পরিষেবা দিচ্ছে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য শুধু বিরক্তির নয়, প্রাণের ঝুঁকিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই নির্দিষ্ট নম্বরের বাসটি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। প্রতক্ষ্যদর্শী ও যাত্রীদের অভিযোগ, বাসটির বাহ্যিক অবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের পরিচালনা মোটেও সন্তোষজনক নয়। বাসের ধীরগতি, ইঞ্জিনের আওয়াজ এবং বসার আসনের জরাজীর্ণ অবস্থা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে ফেলছে।

​কীভাবে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ঢাকা ছাড়ছে?
​সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, যদি একটি গাড়ির ফিটনেস না থাকে, তবে তা রাজধানী ঢাকা থেকে বের হয়ে দূরপাল্লার রুটে চলাচল করার অনুমতি পায় কীভাবে? সাধারণত, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়িয়ে দূরপাল্লার রুটে চলাচলের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে রুট পারমিট এবং নির্দিষ্ট সময়ের ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তবে এই নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং চেকপোস্ট কীভাবে এই বাসটি পার হচ্ছে, তা এক বড় প্রশ্ন।
​সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন যাত্রীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত এবং পুরাতন বাসগুলোর এই ধরনের চলাচল শুধু তাদের যাতায়াতে বিলম্ব ঘটাচ্ছে না, বরং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। বিশেষ করে হাইওয়েগুলোতে দ্রুতগামী যান চলাচল করে, সেখানে ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো একটি চলন্ত টাইমবোম্বের মতো।

​দায়িত্বে অবহেলা কার?
​এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য দায়ী কে, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত, বাসের মালিকপক্ষের একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে ফিটনেস নিশ্চিত করার। তবে এর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কেন নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, যা এই ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা দূর করতে পারে।

​সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি গাড়ির নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং ত্রুটিপূর্ণ গাড়ির বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। উত্তরবঙ্গের যাত্রী দুর্ভোগ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে করা এই অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা উচিত বলে তারা মনে করেন।

​এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।