যুদ্ধের পক্ষে নয় ইরান, আগ্রাসন হলে পাল্টা প্রতিরোধ : পেজেশকিয়ান

ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো দেশ বা শক্তি আগ্রাসন চালালে সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিরোধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কোনো জাতিকে জোর করে আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব নয়।


পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি এবং যুদ্ধকে স্বাগতও জানায়নি। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে ইরান দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, জনগণের সমর্থন, সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং সশস্ত্র বাহিনীর আত্মত্যাগ দেশের প্রতিরোধ সক্ষমতাকে শক্তিশালী করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে। ইরানের অনুমতি ও সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজকে এ জলপথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ নজরদারি রাখছে বলেও দাবি করেন তিনি।


গারিবাবাদি জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেই সেটি কার্যকর হবে। তাঁর দাবি, ওই সমঝোতার প্রতিশ্রুতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রই লঙ্ঘন করেছে। ফলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও ওয়াশিংটনের।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগে পাকিস্তান ও কাতারের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন গারিবাবাদি। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তেহরানের আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং সংঘাত নিরসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলেও জানান তিনি।


এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও ওমান একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়েও আলোচনা করছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সমন্বয়ের কথা রয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।