হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আইনের দ্বারে ব্যবসায়ী

আব্দুস সবুর খান:

অপরাজিতা ওভারসিজের সাবেক হিসাবরক্ষক এলিনা জামান সৃষ্টি (২৮)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ভাউচার তৈরি, নগদ গ্রহণ ও প্রদানসহ বিভিন্নভাবে হিসাব-কারচুপির মাধ্যমে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে কোম্পানির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শর্তে এবং নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ১১ লাখ টাকার একটি চেক জমা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভাড়াটিয়া এলিনা জামান সৃষ্টি অপরাজিতা ওভারসিজে হিসাবরক্ষক পদে যোগ দেন।
প্রতিষ্ঠানটি ছোট পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় হিসাব-সংক্রান্ত অধিকাংশ কার্যক্রম তিনি একাই পরিচালনা করতেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। চাকরিতে যোগদানের কিছুদিন পর প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় পাঁচ মাস তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময় হিসাব বিভাগে একাধিক কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করার জন্য তিনি নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর অভিযোগ, তাঁর অসুস্থতার সুযোগে ওই সময়ে হিসাবরক্ষক বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেন। পরে আরিফুর রহমান সুস্থ হয়ে প্রায় পাঁচ মাস পর অফিসে ফিরে ব্যবসার আর্থিক অবস্থা ও হিসাব জানতে চাইলে হিসাবের গরমিল ধরা পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি টাকার হিসাব সমন্বয় করা সম্ভব হলেও আরও প্রায় ৪ কোটি টাকার হিসাব দিতে পারেননি এলিনা জামান সৃষ্টি।
কোম্পানির পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে নথিভুক্ত করতে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী। জিডি নম্বর ২০১০। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করতে একই বছরের ৩ নভেম্বর দৈনিক কালের কণ্ঠে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয় বলে জানান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে থানা থেকে হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হলেও এলিনা জামান সৃষ্টি বিভিন্ন সময় নানা কারণ দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কখনো অসুস্থতা, কখনো গাড়ি দুর্ঘটনা, আবার কখনো মাথা, কোমর ও পায়ে ব্যথার কথা বলে তিনি সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন আরিফুর রহমান।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে এলিনা জামান সৃষ্টির দেওয়া নিরাপত্তা চেকসংক্রান্ত মামলা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন অপরাজিতা ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান। মামলাটির নম্বর ৮২৭/২০২৩। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
আরিফুর রহমানের অভিযোগ, মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে এলিনা জামান সৃষ্টির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসা অপরাজিতা ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরে অভিযোগ না থাকার দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এলিনা জামান সৃষ্টি দুটি মামলা করেছেন। এর মধ্যে একটি মানহানি মামলা এবং অপরটি নিরাপত্তা চেকসংক্রান্ত মামলা বলে দাবি তাঁর।
আরিফুর রহমানের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পাশাপাশি ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই ‘আদম ব্যবসার আড়ালে সৌদিতে নারী পাচার’ শিরোনামে অপরাজিতা ওভারসিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সময়ের আলো ও বাংলা কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব তথ্যকে তিনি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, তথ্য যাচাই-বাছাই না করে একজন অভিযোগকারীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা দুঃখজনক। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে সঠিক তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
অপরাজিতা ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।