প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: ০৩:২১ পিএম
নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে আসছে রূপপুরের ৩০০ মেগাওয়াট
মাসের পর মাস পিছিয়ে অবশেষে আগামী নভেম্বরে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের। শুরুতে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর আগে প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলিফ ভালভের (পিওআরভি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা সফল হলে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ শেষ করে রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এরপর উৎপন্ন তাপ থেকে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিওআরভি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপে যেতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ এবং টারবাইনে ৩০ শতাংশ স্টিম তৈরি করতে প্রায় ছয় সপ্তাহ লাগতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে প্রায় নয় সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন গত ২৬ আগস্ট বলেন, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এগোতে পারলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো পরীক্ষায় সমস্যা হলে সময় আরও পিছিয়ে যেতে পারে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে থাকতে পারে। ২০১৬ সালে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৪ টাকা ৬৫ পয়সা ধরা হয়েছিল। এর সঙ্গে পরিচালন ব্যয় ও বিমার খরচ যুক্ত হবে। বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এদিকে পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের পর তৈরি হওয়া স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখনো চূড়ান্ত বাণিজ্যিক চুক্তি হয়নি। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সরকারের মধ্যে এ জ্বালানি রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা রয়েছে। তবে এর জন্য বাংলাদেশকে কত অর্থ দিতে হবে, সে বিষয়ে চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পেন্ট ফুয়েলের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার পর নিয়মিত যে তেজস্ক্রিয় ও ভারী বর্জ্য তৈরি হবে, সেগুলোর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্যও দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, স্পেন্ট ফুয়েলের চেয়েও বর্তমানে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পর প্রতিদিন তৈরি হওয়া বিপুল পরিমাণ ভারী বর্জ্য। এসব বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনো তৈরি হয়নি বলেও জানান তিনি।