প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: ০৬:২০ পিএম
স্কুলে ফোন ব্যবহার করলে বহিষ্কার, বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ঘোষণা
বাবুল মিয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ধানু ঘোষণা দিয়েছেন, স্কুল ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন প্রধান শিক্ষক। এ সময় তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে প্রধান শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা আগামীকাল থেকে কোনো ছেলে স্কুলে ফোন সঙ্গে নিয়ে আসতে পারবে না। স্কুলের গেটের ভেতরে ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবে না। যদি কারও কাছে ফোন পাওয়া যায়, স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’
এ সময় তিনি দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী মাসের ১৫ তারিখ টেস্ট পরীক্ষা। সুতরাং তোমরা সতর্ক হয়ে যাবে।’
অ্যাসেম্বলিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাড়াও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কমিটির সদস্য আজিজুল হক, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী আবির হাসান মানিক এবং ব্যবসায়ী সারোয়ার ইবনে গিয়াস উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ২১৮ জন। চলতি বছর বিদ্যালয় থেকে ২১৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন।
প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ধানু বলেন, মোবাইল ফোনে আসক্তির কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগ কমে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফোন পাওয়া যায়। ফোন জব্দ করার পর অভিভাবকরা অনুরোধ করে নিয়ে যান। এবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী স্কুল ক্যাম্পাসে মোবাইল ফোন নিয়ে আসতে পারবে না। কারও কাছে ফোন পাওয়া গেলে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রীরা সাধারণত স্কুলে ফোন নিয়ে আসে না। তারপরও সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন মোবাইল ফোন থেকে দূরে থেকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হয় এবং ভালো ফলাফল অর্জন করে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে—এটাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা।