স্থানীয় নির্বাচন, জানা যাবে দুই সপ্তাহের মধ্যেঃ ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার আশা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের সময়সূচি ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতেও রাখা হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে অনেক কিছু সুনির্দিষ্টভাবে জানানো সম্ভব হবে। কমিশনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং তা শিগগিরই গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কারণ, এসব পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকরা প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরীক্ষা ও নির্বাচন একই সময়ে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরীক্ষার সময় বাদ রেখে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ বলা সম্ভব নয়। তবে কমিশন এ বিষয়ে কাজ করছে এবং অচিরেই বিস্তারিত জানানো হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার। ভোটার স্থানান্তরকে নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কারণে ভোটার স্থানান্তর হয়ে থাকে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রয়োজন অনুযায়ী আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের একটি পর্যায় শেষ হওয়ার পর সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতা, পাবলিক পরীক্ষা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিসহ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনের সময়সূচি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় নির্বাচন কমিশন ‘রোডম্যাপ’ শব্দটি ব্যবহার করছে না বলেও জানান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, দাপ্তরিক কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরের মতো কমিশনও একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে। এর মাধ্যমে কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে।