প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: ১২:০৬ পিএম
তাহিরপুরে এলজিইডির অফিস সহকারীকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
বাবুল মিয়া তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে সদ্য বদলি হয়ে তাহিরপুরে পদায়ন পাওয়া অফিস সহকারী মো. মোফাজ্জল হোসেন মিলনকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাহিরপুর স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। মানববন্ধনে বক্তারা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দ্রুত পদায়ন বাতিলের দাবি জানান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় তাহিরপুর উপজেলার বটতলায় ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
তাহিরপুর সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি মোছায়েল আহমদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সচেতন তাহিরপুরবাসীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা মানিক, তাহিরপুর সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সুহেল আলম, মো. রুহুল আমিন, মোস্তাক আহমদসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মোফাজ্জল হোসেন মিলন দীর্ঘদিন জামালগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও উন্নয়নকাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগ ও অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বদলি করা হয়।
তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বদলির আদেশের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে তাকে আবার সুনামগঞ্জের পার্শ্ববর্তী উপজেলা তাহিরপুরে পদায়ন করা হলো। কোন প্রক্রিয়ায় এবং কী কারণে তার পদায়ন পরিবর্তন করে তাহিরপুরে দেওয়া হয়েছে, তা জনসম্মুখে স্পষ্ট করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, মোফাজ্জল হোসেন মিলন প্রায় ১৬-১৭ বছর জামালগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে সেখানে তার একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তারা। অফিস সহকারী পদে কর্মরত থাকলেও রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলেন বক্তারা।
এ ছাড়া বিভিন্ন কোটেশনের মাধ্যমে লাইসেন্স ও কাজ প্রদান এবং উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বক্তারা বিশেষভাবে জামালগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় জামালগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৮০০টি গাছ লাগানোর জন্য বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে প্রায় ৯০০টি গাছ লাগানো হয়েছে। সড়কের পাশে লাগানো গাছগুলোর অধিকাংশই যথাযথ পরিচর্যা ও তদারকির অভাবে মারা গেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনকারীদের দাবি, প্রতিটি গাছ রোপণের জন্য সরকারি বরাদ্দ ছিল ৫৩৩ টাকা। প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা মোফাজ্জল হোসেন মিলন প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় নামমাত্র অর্থ ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। একই ধরনের অনিয়ম এডিপির বৃক্ষরোপণ প্রকল্পেও হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
তারা এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকার পরও তাকে তাহিরপুরে পদায়ন করার কারণ স্থানীয় জনগণের কাছে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তাহিরপুরে তার পদায়ন বাতিল করে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, মোফাজ্জল হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত না করে তাকে তাহিরপুরে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হলে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। অবিলম্বে তাকে তাহিরপুর থেকে প্রত্যাহার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।