টাইফুন দুজুয়ানে বিপর্যস্ত জাপান, বাতিল ২৭৫ ফ্লাইট ও শিনকানসেন

জাপানে শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডবে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বন্যা, ভূমিধস ও যোগাযোগ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। এর আগে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) আরও ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল করেছিল। এতে বিমানবন্দরগুলোতে আটকা পড়েছেন বহু যাত্রী।


আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার জাপানের রাজধানী টোকিওর কাছাকাছি কাতসুউরা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে আঘাত হানে টাইফুন দুজুয়ান। এ সময় ঝড়ের বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার। ঝড়ের প্রভাবে হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।


ঝড়ের প্রভাবে টোকিও ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ১৬ লাখের বেশি মানুষকে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে টাইফুনটি উপকূল অতিক্রম করে উত্তর-পূর্ব দিকে সমুদ্রের দিকে সরে যায়। এ সময় ঝড়টির শক্তি কিছুটা কমে আসে। পরে এটি আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।


জেএমএর কর্মকর্তা তাকুয়া হোসোমি জানান, ঝড়ের প্রভাবে আরও কিছু সময় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে ঝড়ের কারণে জাপান রেলওয়ের বেশ কিছু পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে টোকিও ও ওসাকার মধ্যে চলাচলকারী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেন পরিষেবাও রয়েছে।


এর আগে রোববার ভারী বৃষ্টি ও শক্তিশালী বাতাসের সতর্কতা জারি করেছিল জেএমএ। সংস্থাটি জানিয়েছিল, মঙ্গলবার পর্যন্ত চলা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সেপ্টেম্বরের গড় মাসিক বৃষ্টিপাতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছিল।


জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কামাকুরার স্টেশনের সামনের সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কামাকুরার মেয়র তাকাশি মাতসুও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কথা জানিয়ে গাড়িতে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

চলতি বছর জাপানে আঘাত হানা এটি ২৫তম টাইফুন। গ্রীষ্মের শেষভাগ ও শরতের শুরুর দিকে জাপানে প্রায়ই শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হানে।